More

    নিজের অন্তর্দ্বন্দ্ব থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে মনোবিদের শরণাপন্ন

    পথচলার গৌরবময় ৩৪ বছর পূর্ণ করেছে বাংলাদেশের অন্যতম স্বনামধন্য নাট্যদল থিয়েটার আর্ট ইউনিট। ২২শে অক্টোবর এই বিশেষ মাইলফলক স্পর্শ করে দলটি। এই বিশেষ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং নাট্যপ্রেমী দর্শকদের নতুন এক অভিজ্ঞতার স্বাদ দিতে, থিয়েটার আর্ট ইউনিট মঞ্চে আনছে তাদের সাম্প্রতিক প্রযোজনা ‘বলয়’। আজ এবং আগামীকাল, অর্থাৎ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ সময়ে, সন্ধ্যা ৭টায়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার মিলনায়তন মুখরিত হবে এই নাটকের প্রথম মঞ্চায়নে। নাটকটি রচনা ও নির্দেশনার গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন প্রতিভাবান নাট্যকার মোকাদ্দেম মোরশেদ

    ‘বলয়’ নাটকের মূল ভাবনা ও চরিত্র বিশ্লেষণ

    নাটকের ‘বলয়’ নামকরণটি গভীর তাৎপর্য বহন করে। এর মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হয়েছে মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে রাজনীতি, সমাজ, ধর্ম, ক্ষমতা, যুক্তি ও অযুক্তির এক জটিল আবর্তন। এই আবর্তের মধ্যে আটকে থাকা মানবসত্তার আত্মবিশ্লেষণই এই নাটকের মূল উপজীব্য। থিয়েটার আর্ট ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ও অভিনেতা কামরুজ্জামান মিল্লাত এই প্রসঙ্গে বলেন, “নাটকটি মানুষের জীবনের নানা পরিসরে রাজনীতি, সমাজ, ধর্ম, ক্ষমতা, যুক্তি ও অযুক্তির বলয়ে আটকে থাকা মানুষের আত্মবিশ্লেষণকে ফুটিয়ে তুলেছে।”

    নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলো হলো—একজন রাজনীতিক, একজন বিজ্ঞানচিন্তক এবং একজন ধর্মতাত্ত্বিক। ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শের এই তিন ব্যক্তিত্ব নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন থেকে মুক্তির সন্ধানে শেষ পর্যন্ত এক মনোবিদের দ্বারস্থ হন। তাদের সংঘাত, অনুসন্ধান এবং উত্তরণের প্রচেষ্টা দর্শককে নিজেদের ভেতরের ‘বলয়’ সম্পর্কে ভাবতে বাধ্য করবে, যা মানব অস্তিত্বের গভীরতম প্রশ্নগুলোকে উন্মোচন করে। মোকাদ্দেম মোরশেদের সুনিপুণ নির্দেশনায় মঞ্চে প্রতিটি চরিত্র প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রেজাউল আমিন, স্বাধীন শাহ্, নাহিদ সুলতানা, সেলিম মাহবুব, বাশরী অনন্যা, রানা সিকদার সহ একঝাঁক প্রতিভাবান শিল্পী, যাঁরা নাটকের প্রতিটি মুহূর্তকে জীবন্ত করে তুলেছেন।

    এস এম সোলায়মানের আদর্শ ও প্রণোদনার ধারাবাহিকতা

    প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই উদযাপন শুধু একটি সংখ্যা অতিক্রম নয়, বরং দলের প্রতিষ্ঠাতা, কিংবদন্তী নাট্যজন এস এম সোলায়মানের আদর্শ ও দর্শনের প্রতি নিবেদিত এক গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। কামরুজ্জামান মিল্লাত এই বিশেষ আয়োজন প্রসঙ্গে আরও বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠাতা এস এম সোলায়মান ছিলেন তারুণ্য ও অদম্য সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল প্রতীক। তাঁর দূরদর্শী চিন্তা, গভীর মনন এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে যে অসীম উদ্দীপনা ছিল, তাকেই আমরা পাথেয় করে চলেছি।”

    এই ধারাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রতি বছর ‘এস এম সোলায়মান প্রণোদনা’ প্রদান করা হয়, যা তরুণ নাট্যকর্মীদের অনুপ্রাণিত করার এক মহৎ উদ্যোগ। ২০০৫ সাল থেকে প্রবর্তিত এই প্রণোদনা ইতোমধ্যেই অনেক তরুণ প্রতিভাকে উৎসাহিত করেছে এবং নাট্যাঙ্গনে নতুন মুখের আগমনকে স্বাগত জানিয়েছে। মিল্লাত সাহেব আরও উল্লেখ করেন, “কিছুদিন আগে আমরা সোলায়মান প্রণোদনা প্রদান করেছি এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে একজন তরুণ নাট্যকার ও নির্দেশকের নতুন নাটক ‘বলয়’ মঞ্চে এনেছি। এসবই সোলায়মান স্যারের ভাবনা ও আদর্শের প্রতি আমাদের আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ বলে আমরা মনে করি।” এই উদ্যোগগুলো শুধুমাত্র একটি বার্ষিকী উদযাপন নয়, বরং একটি নাট্যদলের আদর্শিক উত্তরাধিকার বহন করার এক দৃঢ় অঙ্গীকার, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সোলায়মানের অনুপ্রেরণাকে পৌঁছে দেবে।

    Recent Articles

    Related Stories

    Leave A Reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here