More

    কেন এত আলোচনা জানি না: রুক্মিণী

    টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্রর সাম্প্রতিক গতিবিধি এখন কেবল কলকাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। প্রায়শই তাঁকে দেখা যাচ্ছে আরব সাগরের তীরবর্তী মায়ানগরী মুম্বাইয়ে। এই নিত্য যাতায়াতের পেছনের কারণ কেবল পেশাগত নয়, বরং জড়িয়ে আছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং শৈশবের গভীর এক আবেগ। যদিও বর্তমানে তিনি স্বীয় শহর কলকাতায় রয়েছেন তাঁর আসন্ন ছবি ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’-এর প্রচারণায়। এই ছবির প্রচারাভিযানের ফাঁকে মাঝেমধ্যেই তাঁর মনে উঁকি দিচ্ছে নিজের বাবার স্মৃতি, যা তাঁর মুম্বাইয়ের প্রতি ভালোবাসাকে আরও গভীর করে তোলে।

    মুম্বাইয়ের সঙ্গে গভীর যোগ: শৈশবের প্রতিজ্ঞা থেকে বর্তমানের পথচলা

    অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্র সম্প্রতি গণমাধ্যমে তাঁর মুম্বাই যাতায়াত নিয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে খোলাখুলি কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই মায়ানগরীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নতুন নয়, বরং সুদূর শৈশব থেকেই এর এক নিবিড় বন্ধন রয়েছে। স্মৃতির ঝাঁপি খুলে রুক্মিণী বলেন, “ছোটবেলা থেকেই মুম্বাইয়ের সঙ্গে আমার এক অদ্ভুত যোগ। বাবা প্রায়ই বলতেন, যদি আমি পরীক্ষায় ভালো ফল করি, তাহলে তিনি আমাকে মুম্বাই নিয়ে যাবেন এবং সেখানে আমার পছন্দের জিনিস কিনে দেবেন।” বাবার এই প্রতিশ্রুতি যেন ছোটবেলা থেকেই মুম্বাইকে তাঁর কাছে এক স্বপ্নের নগরী হিসেবে তুলে ধরেছিল। সেই সুবাদে এই শহরটি তাঁর কাছে কেবল একটি কর্মক্ষেত্র নয়, বরং আবেগ এবং স্মৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে যখন তাঁর মুম্বাইয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করা নিয়ে জল্পনা চলছে, রুক্মিণী এটিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁর মতে, মুম্বাই তাঁর বাবার স্মৃতি বিজড়িত এক আবেগপ্রবণ স্থান, যা তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবে।

    আলোচনা এবং রুক্মিণীর নিস্পৃহতা: তারকার ব্যক্তিগত জীবন

    গত বেশ কিছুদিন ধরে রুক্মিণী মৈত্রর নাম বারবার বিভিন্ন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। কখনো তাঁর এবং টলিউডের জনপ্রিয় প্রযোজক-অভিনেতা দেবের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়েছেন, আবার কখনো তাঁর কাজের পরিমাণ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। যদিও রুক্মিণীর ব্যক্তিগত জীবন এবং পেশাদারী কর্মপন্থা বরাবরই এক রহস্যের আবরণে ঢাকা থাকে। বিস্ময়করভাবে, তিনি কাজ না থাকলে নিজেকে জনসমক্ষে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন। এই নিস্পৃহতাই সম্ভবত তাঁর সম্পর্কে কৌতূহল আরও বাড়িয়ে তোলে। এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী সোজাসাপ্টা মন্তব্য করেন, “আমি কোনোদিন সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় নই। যখন কোনো কাজ থাকে, তখনই কেবল আমাকে দেখা যায়। এই পরিস্থিতিতে কেন এত আলোচনা হয়, তা আমার বোধগম্য নয়।” তাঁর এই উক্তি প্রমাণ করে যে তিনি খ্যাতির পেছনে ছোটার চেয়ে নিজের মতো করে জীবন যাপনে বিশ্বাসী এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে তিনি বিশেষ মূল্য দেন। তাঁর কাছে কাজের বাইরে ব্যক্তিগত জগৎ সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ক্ষেত্র, যেখানে অপ্রয়োজনীয় আলোচনা তাঁর জন্য অনভিপ্রেত।

    বাবা-মেয়ের সম্পর্কের নতুন আখ্যান: ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’

    অর্ণব মিদ্যা পরিচালিত ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’ চলচ্চিত্রটি বাবা-মেয়ের এক গভীর এবং সংবেদনশীল সম্পর্কের গল্প বলবে। এই ছবিটিতে জীবনের এক চিরন্তন সত্যকে তুলে ধরা হবে—যেখানে একসময় মা-বাবারাও শিশুর মতো হয়ে ওঠেন, তাঁদের প্রয়োজন হয় সন্তানের যত্ন ও ভালোবাসার। বিশেষ করে ‘সিঙ্গেল পেরেন্ট’ বা একক অভিভাবকদের ক্ষেত্রে এই বাস্তবতা আরও প্রকট হয়, যেখানে একাকী অভিভাবক এবং সন্তানের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা এক নতুন মাত্রা পায়। রুক্মিণী উল্লেখ করেন যে, এই চলচ্চিত্রে কেবল বাবা-মেয়ের চিরাচরিত সম্পর্কের বাইরেও এক ভিন্ন এবং লুকানো গল্প রয়েছে, যা দর্শকদের গভীরভাবে স্পর্শ করবে এবং এক নতুন চিন্তাধারার জন্ম দেবে।

    ছবির টিজার প্রকাশের পর অনেকেই এর সঙ্গে সুজিত সরকার পরিচালিত হিন্দি চলচ্চিত্র ‘পিকু’-এর তুলনা করা শুরু করেছিলেন, যেখানে বাবা-মেয়ের আধুনিক সম্পর্কের চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। তবে রুক্মিণীর মতে, ট্রেলার প্রকাশের পর এই ধারণা অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে যে ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’ একটি স্বতন্ত্র এবং মৌলিক সৃষ্টি। অভিনেত্রী জানান, “টিজার দেখে অনেকে প্রথমে ‘পিকু’র সঙ্গে তুলনা করছিলেন। কিন্তু ট্রেলার আসার পর অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে যে এই ছবির প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এই সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক কেবল বাবা-মেয়ের বন্ধন নয়, বরং সম্পর্কের জটিলতা, দায়িত্ববোধ এবং সময়ের সাথে সাথে অভিভাবকদের মানসিক পরিবর্তনকে নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।” এটি দর্শককে এক নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে পারিবারিক সম্পর্ককে উপলব্ধি করার সুযোগ দেবে এবং একই সাথে জীবনের এক সংবেদনশীল দিক উন্মোচন করবে।

    Recent Articles

    Related Stories

    Leave A Reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here