সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক শুমারিতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭২টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান গণনার বাইরে থেকে গেছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) কর্তৃক পরিচালিত একটি বিশদ পোস্ট ইনুমারেশন চেকের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র উপলব্ধিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
২০২৪ সালে পরিচালিত প্রাথমিক অর্থনৈতিক শুমারিতে মোট ১ কোটি ১৮ লাখ ৭৭ হাজার ৩৬৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। তবে, পরবর্তীতে বিআইডিএস-এর নিবিড় অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই সংখ্যাটি আসলে ১ কোটি ২২ লাখ ৪২ হাজার ৮৩৬টি। অর্থাৎ, প্রাথমিক গণনায় একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিষ্ঠান বাদ পড়েছিল, যা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে অদেখা রেখেছিল।
বিআইডিএস-এর পোস্ট ইনুমারেশন চেক এবং প্রতিবেদন প্রকাশ
দেশের অর্থনৈতিক শুমারির নির্ভুলতা যাচাইয়ের জন্য বিআইডিএস এই পোস্ট ইনুমারেশন চেকের কাজটি সম্পন্ন করেছে। সোমবার (তারিখ উল্লেখ নেই, তবে মূল নিউজে সোমবার বলা আছে) রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বিআইডিএস সম্মেলন কক্ষে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএস-এর মহাপরিচালক প্রফেসর ড. একে এনামুল হক। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব এসএম শাকিল আকতার এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। বিআইডিএস-এর গবেষণা পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইউনূস অত্যন্ত সাবলীলভাবে প্রতিবেদনের মূল বিষয়বস্তু ও ফলাফলসমূহ উপস্থাপন করেন।
শুমারির পদ্ধতি ও নিরীক্ষার ফলাফল
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১০ থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশের ৮৭ হাজার ৬২৯টি অর্থনৈতিক এলাকা থেকে প্রাথমিক শুমারির তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। এরপর, ২০২৫ সালের ২৮ জুন থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত ৩৫২টি নির্বাচিত এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এই পোস্ট ইনুমারেশন চেক সম্পন্ন করা হয়।
এই নিরীক্ষায় দেখা গেছে, অর্থনৈতিক শুমারিতে ভুলের হার দাঁড়িয়েছে ২.৯৫ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, মূল শুমারি থেকে পোস্ট ইনুমারেশন চেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত ভুল গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। সেই তুলনায় বাংলাদেশের এই ভুলের হার নিঃসন্দেহে স্বস্তিদায়ক এবং প্রশংসনীয়। ড. ইউনূস তাঁর উপস্থাপনায় এই বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেন, যা দেশের পরিসংখ্যানগত সক্ষমতার একটি ভালো দিক নির্দেশ করে।
অঞ্চলভিত্তিক বাদ পড়ার হার এবং কারণ
ড. ইউনূস তাঁর উপস্থাপনায় অঞ্চলভিত্তিক বাদ পড়ার হারের একটি বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের ১১টি সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বাদ পড়া প্রতিষ্ঠানের হার ছিল সর্বাধিক ৫.৯৯ শতাংশ। এর প্রধান কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরাঞ্চলে অনেক প্রতিষ্ঠানের মালিক তথ্য প্রদানে অসহযোগিতা করেছেন, যা সঠিক তথ্য সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, উপজেলা পর্যায়ে বাদ পড়া প্রতিষ্ঠানের হার ছিল অপেক্ষাকৃত কম, ২.৪৮ শতাংশ। একইভাবে, পৌরসভা এলাকায় এই হার ছিল ২.৩৩ শতাংশ। এই পরিসংখ্যানগুলো শুমারি কার্যক্রমে শহর ও গ্রামীণ এলাকার ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। ভবিষ্যতে শুমারি পরিচালনার ক্ষেত্রে এই তথ্যগুলো নীতি-নির্ধারকদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।
