সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার বাংলাদেশের মুদ্রাবাজার ছিল সরগরম, যেখানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হার নিয়ে চলেছে নিবিড় পর্যবেক্ষণ। দীর্ঘদিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর, গত দুদিন ধরে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রয়েছে, যা অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনেছে। তবে, এই স্থিতিশীলতা সাময়িক নাকি দীর্ঘমেয়াদী, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত আছে।
মার্কিন ডলারের স্থিতিশীলতা এবং বিনিময় হার
দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আজ মার্কিন ডলারের সর্বোচ্চ বিনিময় হার রেকর্ড করা হয়েছে ১২২ টাকা ৫৮ পয়সা, যেখানে সর্বনিম্ন হার ছিল ১২২ টাকা ৫২ পয়সা। দিনের গড় বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৫৪ পয়সা। টানা কয়েক দিন মূল্যবৃদ্ধির পর, গত দুদিন ধরে ডলারের এই অপরিবর্তিত অবস্থা মুদ্রাবাজারের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মার্কিন ডলারের বিনিময় হারে উল্লেখযোগ্য উত্থান-পতন পরিলক্ষিত হয়েছে, যা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যকে প্রভাবিত করেছে এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে ছিল। এই স্থিতিশীলতা সাময়িক স্বস্তি আনলেও, এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনো পরিষ্কার নয়।
অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
আজকের মুদ্রাবাজারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল কোনো আন্তর্জাতিক মুদ্রার মূল্যহ্রাস না ঘটা। বিপরীতে, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে: ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড, ভারতীয় রুপি, অস্ট্রেলীয় ডলার এবং সিঙ্গাপুরি ডলার। এই মুদ্রাগুলোর মূল্যবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য এবং রেমিটেন্স প্রবাহের উপর ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ফেলতে পারে। তবে, চীনা ইউয়ান এবং জাপানি ইয়েনের বিনিময় হার পূর্বাবস্থায় অপরিবর্তিত রয়েছে, যা এশীয় বাণিজ্য ব্লকের সাথে সংশ্লিষ্ট লেনদেনগুলোতে কোনো তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনেনি।
খোলাবাজার এবং অর্থনীতির ওপর প্রভাব
সাধারণত, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত বিনিময় হারের চেয়ে খোলাবাজারে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন কিছুটা উচ্চমূল্যে হয়ে থাকে, যা মুদ্রা বাজারের একটি স্বাভাবিক প্রবণতা। এই পার্থক্য বিভিন্ন কারণে তৈরি হয়, যার মধ্যে চাহিদা ও যোগানের তারতম্য অন্যতম। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের এই পরিবর্তনশীলতা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে, বিশেষ করে আমদানি-রপ্তানি নির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ এবং পণ্যমূল্যের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ডলারসহ অন্যান্য মুদ্রার ওঠানামা দেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্য, মুদ্রাস্ফীতি এবং বিনিয়োগ পরিবেশকেও প্রভাবিত করতে পারে। তাই, এই বিনিময় হারের দিকে নিবিড় নজর রাখা অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক এবং ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
