বাংলাদেশের সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে সমাপনী ঘোষণা করা হলো চার মাসব্যাপী শক্তিকন্যা লিডারশিপ কোহর্ট ২০২৫ কর্মসূচির। দেশের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) বিষয়ে অধ্যয়নরত তরুণীদের পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি শিল্পে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করে তোলার মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এই বিশেষায়িত উদ্যোগটি পরিচালিত হয়েছে। এটি কেবল একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়, বরং বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নের এক সুদূরপ্রসারী প্রতিচ্ছবি।
এই প্রশংসনীয় উদ্যোগটি বাস্তবায়নে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মান ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এবং বিশ্বব্যাংক যৌথভাবে সহায়তা প্রদান করেছে। জিআইজেড বাংলাদেশ এবং ডেভটেল পার্টনার্স তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই শক্তিকন্যা কর্মসূচিকে সফলতার মুখ দেখিয়েছে। এ বছরের কোহর্টে, বিশেষভাবে নির্বাচিত ৭৫ জন তরুণী অংশগ্রহণকারী নেতৃত্ব বিকাশের অত্যাবশ্যকীয় জ্ঞান, টেকসই জ্বালানি প্রযুক্তির সর্বশেষ উদ্ভাবন, পরিবেশবান্ধব দক্ষতা এবং পেশাগত উন্নয়নে নিবিড় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি, এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন মেন্টরশিপ সেশন, গুরুত্বপূর্ণ ফিল্ড ভিজিট, আবাসিক বুটক্যাম্প এবং উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন, যা তাদের ব্যবহারিক জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
কর্মসূচির জাঁকজমকপূর্ণ সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে নিযুক্ত প্রতিনিধি, জার্মান দূতাবাস, বিশ্বব্যাংক এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে জ্বালানি খাতে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করার অপরিসীম গুরুত্ব তুলে ধরেন, যা একটি সুষম ও শক্তিশালী সমাজ গঠনের জন্য অপরিহার্য। তাঁরা আরও উল্লেখ করেন যে, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান অত্যন্ত নগণ্য হলেও, পরিবেশ সুরক্ষায় এর অঙ্গীকার দৃঢ়। এই প্রেক্ষাপটে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের অগ্রযাত্রায় নারীদের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি তারা পুনর্ব্যক্ত করেন, যা দেশের টেকসই উন্নয়নে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মিশেল মিলার তার বক্তব্যে শক্তিকন্যা কর্মসূচির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়ন শক্তিকন্যার মতো একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগের সঙ্গে কাজ করতে পেরে অত্যন্ত গর্বিত।” তিনি আরও বলেন যে, শক্তিকন্যা কর্মসূচি তরুণীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাস অর্জন এবং নেতৃত্ব বিকাশে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রাষ্ট্রদূত মিলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি আরও সমতাপূর্ণ, উদ্ভাবনী, সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করতে ভবিষ্যতেও তার সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ তার বক্তব্যে জ্বালানি খাতকে নারীবান্ধব করে তোলার প্রতি জার্মানির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “জ্বালানি খাতকে নারীবান্ধব করার বিষয়ে আমাদের যে অঙ্গীকার, তা বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।” রাষ্ট্রদূত লোটজ গুরুত্বারোপ করে বলেন, জার্মানি চায় নারীরা কেবল কর্মক্ষেত্রে নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের উচ্চতর টেবিলগুলোতে নিজেদের যোগ্য স্থান করে নিক এবং জাতীয় উন্নয়নের প্রতিটি স্তরে তাদের বলিষ্ঠ অবদান রাখুক। এই অঙ্গীকার নিশ্চিত করবে যে, ভবিষ্যৎ জ্বালানি খাতে নারীরা কেবল অংশগ্রহণকারীই নয়, বরং মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।
