বাংলাদেশের সংগীত জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি! না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন ফিডব্যাক ব্যান্ডের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং দেশের বরেণ্য গিটারিস্ট সেলিম হায়দার। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে সংগীত অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার এই হৃদয়বিদারক সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, এই কিংবদন্তি শিল্পী দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি তিনি ক্যানসারসহ একাধিক জটিল শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর জীবনাবসান হয়। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বাদ জুমা হাতিরপুল পুকুর পাড় জামে মসজিদে মরহুমের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।
সংগীতের এক নিবেদিত প্রাণ
সেলিম হায়দারের সংগীত জীবনের শুরু হয়েছিল ‘সন্ন্যাসী’ ব্যান্ড দিয়ে, যেখানে প্রয়াত গায়ক শেখ ইশতিয়াক ভোকাল হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তীতে তিনি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী ব্যান্ড ফিডব্যাক প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ফিডব্যাক ব্যান্ডের বাইরেও তিনি ‘মাকসুদ ও ঢাকা’ ব্যান্ডের হয়ে গিটার বাজিয়েছেন, যেখানে তাঁর অনবদ্য গিটারের সুর মুগ্ধ করেছে অসংখ্য শ্রোতাকে। তাঁর জাদুকরী গিটার বাজানোর ধরন তাঁকে শ্রোতা ও সমালোচক উভয়ের কাছেই অত্যন্ত প্রিয় করে তুলেছিল।
বহু কিংবদন্তি শিল্পীর সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল সেলিম হায়দারের। শাফিন আহমেদ ও হামিন আহমেদের প্রথম ব্যান্ডেরও প্রধান গিটারিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, প্রখ্যাত শিল্পী রুনা লায়লার সাথেও মঞ্চে গিটারের ঝংকার তুলেছেন এই ভার্সেটাইল মিউজিশিয়ান। অসংখ্য সিনেমার গানে তাঁর জাদুকরী গিটারের উপস্থিতি শ্রোতাদের মন জয় করেছে। জীবনের শেষ পর্যায়েও তিনি ‘উল্লাস’ এবং ‘সেলিম হায়দার ও ফ্রেন্ডস’ ব্যান্ডে সক্রিয় ছিলেন, যেখানে তাঁর অতুলনীয় অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
সেলিম হায়দার কেবল একজন অসাধারণ গিটারিস্টই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন প্রতিভাবান সুরকারও। ফিডব্যাক ব্যান্ডের দুটি অত্যন্ত জনপ্রিয় গান, যেমন— ‘এইদিন চিরদিন রবে’ এবং ‘ঐ দূর থেকে দূরে’, তাঁরই অনবদ্য সৃষ্টি। মূলত তিনি একজন লিড গিটারিস্ট হিসেবে পরিচিত হলেও, বেজ গিটার, রিদম গিটার এবং কি-বোর্ড বাজানোতেও তাঁর দক্ষতা ছিল সমানভাবে অসাধারণ। তাঁর এই বহুমাত্রিক প্রতিভা এবং সংগীতের প্রতি গভীর নিষ্ঠা তাঁকে দেশের সংগীত জগতে এক বিশেষ স্থানে অধিষ্ঠিত করেছিল। তাঁর প্রয়াণে বাংলাদেশের সংগীত জগতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো, তা পূরণ হওয়া সত্যিই কঠিন।
