More

    ডামি নির্বাচনের পর খুনি হাসিনার গুণকীর্তন করে গান গেয়েছিল আবুল সরকার!

    ইসলাম ও মহান আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ ওঠার পর দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন বাউল শিল্পী আবুল সরকার। তার বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিতর্কিত মন্তব্যগুলো ছড়িয়ে পড়লে এ উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। এই ঘটনাটি দেশের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার গুরুতর অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

    গ্রেফতার ও জনবিক্ষোভের সূত্রপাত

    গত ৪ অক্টোবর, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় আয়োজিত এক সঙ্গীতানুষ্ঠানে আবুল সরকার ইসলাম ও আল্লাহকে নিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিম জনগোষ্ঠী এবং ধর্মপ্রাণ বিভিন্ন সংগঠন আবুল সরকারের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। জনমতের এই তীব্র চাপ এবং অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি দ্রুত তদন্তের আওতায় আনে। ফলস্বরূপ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এবং গত বৃহস্পতিবার ভোরে মাদারীপুর থেকে আবুল সরকারকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তিনি আদালতের নির্দেশে কারাগারে রয়েছেন, যেখানে তাকে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।

    রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও বিতর্কিত পরিবেশনা

    এদিকে, আবুল সরকারের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, জানুয়ারি ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর, যা বিভিন্ন মহলে ‘ডামি নির্বাচন’ হিসেবে সমালোচিত হয়েছিল, তাকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত আমন্ত্রণ জানানো হতো। এসব অনুষ্ঠানে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসামূলক গান পরিবেশন করতেন। সম্প্রতি, বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা এবং নৌকা প্রতীকের গুণকীর্তন করে গাওয়া আবুল সরকারের এমনই একটি গান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ছড়িয়ে পড়েছে, যা তার বিতর্ক আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

    এই গানটি ২০২৪ সালের মার্চ মাসে ‘গানের পাখি বিডি’ নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছিল। গান প্রকাশের সময়কাল অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে, এটি ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নির্বাচনের পরপরই গাওয়া হয়েছিল। গানটি যে অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়েছিল, তার ব্যানারে দৃশ্যমান তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি টাঙ্গাইলে আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী খান আহমেদ শুভ। ওই অনুষ্ঠানে আবুল সরকারের কণ্ঠে যে গানটি শোনা যায়, তার কয়েকটি পঙক্তি ছিল নিম্নরূপ:

    ‘ইতিহাসের রাখাল রাজা বঙ্গবন্ধুর নায়
    আয় বাঙালি জলদি কইরা আয়
    তোরা আয়, আয়রে আমার শেখ হাসিনার নায়’

    এই গান এবং তার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বিতর্কিত মন্তব্যগুলো একত্রিত হয়ে আবুল সরকার বর্তমানে জনগণের তীব্র সমালোচনা ও আইনি জটিলতার সম্মুখীন হয়েছেন। তার গ্রেফতারের পর দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি এলেও, বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ঘটনার প্রভাব ও উত্তেজনা সমাজে বিরাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    Recent Articles

    Related Stories

    Leave A Reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here