More

    তিশার অভিযোগ নিয়ে যা বললেন কলকাতার পরিচালক

    ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশাকে ঘিরে বিতর্ক যেন নতুন মোড় নিচ্ছে। কলকাতার চলচ্চিত্র ‘ভালোবাসার মরশুম’-এ অভিনয়ের চুক্তি এবং অগ্রিম অর্থ গ্রহণ সত্ত্বেও কাজ শুরু হওয়ার আগেই তাঁর সরে দাঁড়ানো ঘিরে যে অভিযোগের সূত্রপাত হয়েছিল, তা এখন চরম আকার ধারণ করেছে। এই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং পাল্টাপাল্টি দাবিতে তৈরি হওয়া দ্বন্দ্ব ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে, যা পুরো বিনোদন জগতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    বিতর্কের সূত্রপাত: অগ্রিম পারিশ্রমিক ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

    প্রাথমিকভাবে, ‘ভালোবাসার মরশুম’ সিনেমার প্রযোজক হিসেবে পরিচয় দানকারী শরীফ খান অভিযোগ তোলেন যে, তানজিন তিশা কাজ না করেও নেওয়া সাড়ে চার লাখ টাকা অগ্রিম পারিশ্রমিক ফেরত দিচ্ছেন না। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিনেত্রী তানজিন তিশা তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেন। তাঁর দাবি ছিল, শরীফ খান এই সিনেমার কোনো স্বীকৃত প্রযোজক নন। তিনি এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দেন এবং নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করেন।

    গত ১৬ নভেম্বর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক দীর্ঘ বিবৃতি দিয়ে তানজিন তিশা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এই সিনেমার সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও যথেষ্ট ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তাঁর এই বিবৃতির পর সিনেমার পরিচালক এমএন রাজ নীরবতা ভেঙে গণমাধ্যমে মুখ খুলেছেন এবং বিতর্কের এক নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।

    পরিচালকের বয়ান: ‘তিশা ভুল বিবৃতি দিচ্ছেন’

    সম্প্রতি ‘ভালোবাসার মরশুম’ সিনেমার পরিচালক এমএন রাজ গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তানজিন তিশার বক্তব্যকে ‘ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “তিশা ভুল বিবৃতি দিচ্ছেন।” পরিচালকের ভাষ্যমতে, তিশাকে অবশ্যই কাজের জন্য অগ্রিম অর্থ দেওয়া হয়েছিল এবং যেহেতু তিনি কাজটি করেননি, সেই অর্থ ফেরত দেওয়া তাঁর নৈতিক ও আইনি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এই বিষয়টি নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকার সুযোগ নেই বলেই তিনি মনে করেন।

    এমএন রাজ তাঁর সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, তিনি অন্য একটি প্রজেক্টে ব্যস্ত থাকার কারণে ভেতরের কিছু বিষয় সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত ছিলেন না। তবে তাঁর মতে, তিশাকে যে অর্থ দেওয়া হয়েছে, তা তাঁকে অবশ্যই ফেরত দিতে হবে। চুক্তির প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণত কোনো চুক্তিপত্রে অগ্রিম টাকা ফেরতের বিষয় স্পষ্টভাবে লেখা থাকে না, কারণ এটি একটি অলিখিত নিয়ম যে কাজ না করলে অগ্রিম অর্থ ফেরত দিতে হয়। এটি প্রযোজনা শিল্পের একটি প্রতিষ্ঠিত প্রথা, যা সবাই মেনে চলে। সুতরাং, তিশার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হওয়ার কোনো কারণ নেই।

    শারমান যোশির শিডিউল পরিবর্তন এবং তিশার আমেরিকা যাত্রা

    পরিচালক এমএন রাজ জানান, তানজিন তিশার সুবিধার জন্য তাঁরা দীর্ঘ এক মাস অপেক্ষা করেছেন। এমনকি, বলিউড অভিনেতা শারমান যোশির মতো একজন আন্তর্জাতিক তারকার শুটিং শিডিউলও পরিবর্তন করতে হয়েছিল শুধু তিশার সময়োপযোগী অংশগ্রহণের জন্য। এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল যাতে তিশা স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারেন এবং ছবির কাজ মসৃণভাবে এগোতে পারে।

    এই নির্মাতা আক্ষেপ করে বলেন, “তিশার জন্য রিকোয়েস্ট করে শারমানের তারিখ বদলেছি।” কিন্তু তিশা তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করেননি। এমনকি ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য অ্যাম্বাসিতে গিয়ে পাসপোর্টও জমা দেননি। উল্টো তিনি কাউকে কিছু না জানিয়ে আমেরিকায় চলে যান, যা ছবির প্রযোজনা দলের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়। পরিচালক তাঁর সঙ্গে শেষবার কথা বলার সময় শুধু বলেছিলেন, “পাসপোর্ট জমা দাও, তারপর যাও।” এই নির্দেশ অমান্য করে তাঁর চলে যাওয়া সিনেমার কাজকে আরও জটিল করে তোলে এবং বিশাল আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়। এমএন রাজ আরও যোগ করেন যে, গত ৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় তিশার অ্যাম্বাসিতে উপস্থিত থাকার কথা ছিল, যা তিনি করেননি। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, বিতর্ক আরও গভীর হচ্ছে এবং এর সুরাহা কবে হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

    Recent Articles

    Related Stories

    Leave A Reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here