জিম্বাবুয়ে যখন এক শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের দিকে তাকিয়ে ছিল, অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করছিল পাকিস্তানের জয়ের, যা তাদের জন্য উন্মুক্ত করে দিত ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনালের দ্বার, তখন দৃশ্যপটে ঘটে গেল এক নাটকীয় মোড়। এই টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল সমতুল্য এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শ্রীলঙ্কা এক দারুণ জয়ে পাকিস্তানকে মাত্র ৬ রানে পরাজিত করেছে, আর তাতেই নিশ্চিত হয়েছে তাদের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের টিকিট। এই ফল জিম্বাবুয়ের দীর্ঘশ্বাস আর স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়ে আসে, কারণ ‘যদি কিছু একটা হয়ে যায়’ সেই প্রার্থনা শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি।
শ্রীলঙ্কার ইনিংস: লক্ষ্য নির্ধারণ
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা দেখান এক অসাধারণ দৃঢ়তা ও বিচক্ষণতার সমন্বয়। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে তারা সংগ্রহ করে ১৮৪ রান, যা স্বাগতিক পাকিস্তানের জন্য ছিল এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। ইনিংসের মূল স্থপতি ছিলেন কামিল মিশারা, যিনি মাত্র ৪৮ বলে ৭৬ রানের এক চোখধাঁধানো ইনিংস খেলেন, তার ব্যাটে ভর করেই শ্রীলঙ্কার স্কোরবোর্ড দ্রুতগতিতে সচল থাকে। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন কুশল মেন্ডিস, যিনি মাত্র ২৩ বলে ঝড়ো ৪০ রান করে দলের রান রেট বাড়িয়ে দেন এবং প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেন।
মিডল অর্ডারে জানিথ লিয়ানাগে অপরাজিত ২৪ রান এবং অধিনায়ক দাসুন শানাকার ১৭ রানের অবদান দলের সংগ্রহকে আরও মজবুত করে তোলে। যদিও ইনিংসের শুরুতে শ্রীলঙ্কা কয়েকটি দ্রুত উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল, তবে মিশারা, মেন্ডিস এবং লিয়ানাগের সুচিন্তিত ও কৌশলগত জুটিগুলো পরিস্থিতি সামলে নেয় এবং একটি সম্মানজনক স্কোর গড়তে সাহায্য করে। অতিরিক্ত হিসেবে ১৩ রানও দলের মোট সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা তাদের একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যায়।
পাকিস্তানের রান তাড়া: এক অসমাপ্ত যুদ্ধ
১৮৫ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ছিল বেশ আক্রমণাত্মক, যা জয়ের জন্য তাদের দৃঢ় সংকল্পের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। তবে লঙ্কান বোলারদের সুপরিকল্পিত বোলিং এবং নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনের কারণে তাদের জয়ের পথে বারবার বাধা সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত তারা ৭ উইকেট হারিয়ে থামে ১৭৮ রানে, মাত্র ৬ রানের জন্য লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয় এবং জয়ের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে আসে।
পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ স্কোর করেন সালমান আগা, যিনি অপরাজিত ৬৩ রানের এক লড়াকু ও দৃষ্টিনন্দন ইনিংস উপহার দেন। তার এই অসাধারণ প্রচেষ্টা দলের জন্য আশার আলো দেখালেও, শেষ পর্যন্ত তা জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি। তাকে সঙ্গ দিয়েছিলেন উসমান খান, যার ব্যাট থেকে আসে ৩৩ রান, এবং মোহাম্মদ নওয়াজ, যিনি ২৭ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। তবে, এই ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সগুলো সম্মিলিতভাবে পাকিস্তানকে জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পারেনি, এবং নিয়মিত বিরতিতে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারানোই তাদের পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
শেষ ওভারের নাটকীয়তা ও জিম্বাবুয়ের স্বপ্নভঙ্গ
ম্যাচটি শেষ ওভারে গড়িয়েছিল এক চরম উত্তেজনা আর স্নায়ুচাপের মুহূর্ত নিয়ে। পাকিস্তানের জয়ের জন্য শেষ ৬ বলে প্রয়োজন ছিল ১০ রান, কিন্তু শ্রীলঙ্কার বোলাররা তাদের স্নায়ুর চাপ ধরে রেখে দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্য প্রদর্শন করে। ফলস্বরূপ, স্বাগতিক পাকিস্তান সেই কাঙ্ক্ষিত ১০ রান সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়, এবং শ্রীলঙ্কা ৬ রানের নাটকীয় জয় নিয়ে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনালে নিজেদের স্থান সুনিশ্চিত করে।
অন্যদিকে, এই পরাজয়ের মাধ্যমে জিম্বাবুয়ের ফাইনালে যাওয়ার যে ক্ষীণ আশাটুকু অবশিষ্ট ছিল, তাও চিরতরে বিলীন হয়ে যায়। তাদের অধীর অপেক্ষা আর ‘যদি কিছু একটা হয়ে যায়’ এই প্রার্থনা শেষমেশ পূরণ হয়নি, যা তাদের হতাশায় নিমজ্জিত করে। শ্রীলঙ্কার জন্য এটি ছিল এক অবিস্মরণীয় জয়, যা তাদের টুর্নামেন্টে আরও আত্মবিশ্বাস যোগাল এবং শিরোপা জয়ের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল।
