More

    প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতল ব্রাজিলকে কাঁদানো পর্তুগাল

    দোহায় অনুষ্ঠিত ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ ২০২৫ এর ফাইনালে এক ঐতিহাসিক জয়ের মধ্য দিয়ে পর্তুগাল প্রথমবারের মতো শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে। কাতারের সুবিশাল খলিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ১-০ গোলে পরাজিত করে পর্তুগিজ যুবারা বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে নতুন এক ইতিহাস রচনা করেছে। সেমিফাইনালে শক্তিশালী ব্রাজিলকে পরাজিত করে ফাইনালে আসা পর্তুগালের জন্য এই শিরোপা অর্জন ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষার ফল, যা তাদের ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

    পর্তুগালের ঐতিহাসিক শিরোপা জয় ও ম্যাচের মূল মুহূর্ত

    বৃহস্পতিবারের ফাইনাল ম্যাচটি ছিল টানটান উত্তেজনাপূর্ণ। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে পর্তুগালের হয়ে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন আনিসিও ক্যাব্রাল। তার এই গোলই পর্তুগালকে এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত শিরোপা। লক্ষণীয় বিষয় হলো, ফুটবল বিশ্বকাপের এই পর্যায়ের ফাইনালে পর্তুগাল এবং অস্ট্রিয়া – উভয় দলই প্রথমবারের মতো নিজেদের স্থান করে নিয়েছিল, যা ম্যাচটিকে আরও বিশেষ করে তোলে।

    অস্ট্রিয়ার অপ্রতিরোধ্য যাত্রা ও গোলহীন ফাইনাল

    টুর্নামেন্ট জুড়ে অস্ট্রিয়ার ফরোয়ার্ড জোহানেস মজার ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ফাইনালের আগ পর্যন্ত তার নামের পাশে জমা হয়েছিল আটটি গোল, যা তাকে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তিনি গোলের দেখা পাননি। বরং, ম্যাচের শেষ দিকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা অস্ট্রিয়ার ড্যানিয়েল ফ্রাউশার ৮৫তম মিনিটে সমতা আনার সবচেয়ে কাছাকাছি চলে এসেছিলেন। তার জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে, যা অস্ট্রিয়ান সমর্থকদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করে। মাঠে নামার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তিনি এই সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন, যা ম্যাচের উত্তেজনাকে চরমে পৌঁছে দেয়।

    ক্যাব্রালের অবদান ও ম্যাচের প্রতিদ্বন্দ্বিতা

    টুর্নামেন্টে জোহানেস মজার-এর সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন পর্তুগালের আনিসিও ক্যাব্রাল। তিনি সাত গোল করে টুর্নামেন্ট শেষ করেন এবং তার করা ৩২ মিনিটের সেই গোলটিই ইউরোপিয়ান অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়ন পর্তুগালকে বিশ্ব শিরোপা এনে দেয়। এই ম্যাচটি এতটাই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল যে, দুই দলের পরিসংখ্যান প্রায় কাছাকাছি ছিল। গোলমুখে শট এবং গোলরক্ষককে পরীক্ষার করার সংখ্যায় অস্ট্রিয়া সামান্য এগিয়ে ছিল; তাদের শট ছিল ১৫টি, যেখানে পর্তুগালের ছিল ১৪টি। লক্ষ্যে থাকা শটের ক্ষেত্রে অস্ট্রিয়ার পাঁচটি শট ছিল, আর পর্তুগালের ছিল চারটি। এই পরিসংখ্যানই ম্যাচের তীব্রতা এবং দু’দলের দৃঢ় সংকল্পের প্রমাণ দেয়।

    সেমিফাইনাল এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের চিত্র

    ফাইনালে ওঠার আগে সেমিফাইনাল ম্যাচগুলোও ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। পর্তুগাল পেনাল্টি শুটআউটে ৬-৫ ব্যবধানে ব্রাজিলকে পরাজিত করে ফাইনালে জায়গা করে নেয়। অন্যদিকে, অস্ট্রিয়া ২-০ গোলে ইতালিকে হারিয়ে নিজেদের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে।

    তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইতালি এবং ব্রাজিল মুখোমুখি হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়। সেখানে ইতালি ৪-২ গোলে ব্রাজিলকে হারিয়ে টুর্নামেন্টে তৃতীয় স্থান অধিকার করে, যা তাদের জন্য একটি সম্মানজনক অর্জন ছিল। এই ম্যাচগুলো পুরো টুর্নামেন্টের উত্তেজনাপূর্ণ মেজাজকে প্রতিফলিত করে এবং তরুণ প্রতিভাদের দৃঢ়তা ও পারফরম্যান্সের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

    Recent Articles

    Related Stories

    Leave A Reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here