More

    সরকার যেদিকে যাবে, পরিস্থিতি সেদিকে ঘুরবে

    দীর্ঘ আট মাস ধরে নিরলস আলোচনার পর ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেছে। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ফলস্বরূপ সম্প্রতি জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই সনদের মাধ্যমে এর বাস্তবায়নের যাবতীয় দায়ভার এবং পদ্ধতি নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারের হাতে ন্যস্ত হয়েছে। এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এই সনদ বাস্তবায়নে আদেশ জারি করতে পারবেন কিনা, সেই বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া জরুরি। এই প্রশ্নের উত্তর ‘হ্যাঁ’ হোক বা ‘না’ হোক, জনসম্মুখে তা পরিষ্কারভাবে জানানো প্রয়োজন। একইসাথে, গণভোটের বিষয়টি নির্বাচন পূর্ববর্তী নাকি পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত হবে, সে সম্পর্কেও সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান দেশবাসীকে অবহিত করা দরকার। এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনিশ্চয়তা জিইয়ে রেখে সরকার যখন রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানায়, তখন তা বিবেচনাহীন এবং অদূরদর্শী বলেই প্রতীয়মান হয়।

    সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা এবং বাস্তবায়ন জটিলতা

    দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রায় সব পক্ষই একমত। তবে, এই সংস্কার বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে কতিপয় ভিন্নমত পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা মূলত বড় ধরনের বিভাজন হিসেবে বিবেচিত নয়। বরং মূল উদ্বেগ হলো, যদি এই সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা না যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে প্রবল আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা গভীর আঘাত পাবে। সংস্কারের ব্যর্থতা জনমনে হতাশা সৃষ্টি করতে পারে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত করতে পারে।

    জাতীয় নির্বাচন ও সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপের আবশ্যকতা

    বর্তমানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে একটি জোরালো ও সুসংহত অবস্থান গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। একই সাথে, সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারকে কঠিন ও অটল সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে সরকার চাইলে সকল রাজনৈতিক দলকে আলোচনার জন্য ডেকে সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নিতে পারে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে, প্রয়োজনে কোনো কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতেও সরকার কুণ্ঠাবোধ করবে না – এমন দৃঢ়তা প্রদর্শন করা জরুরি। কারণ, এই মুহূর্তে দেশের কল্যাণই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।

    সনদ বাস্তবায়ন না হওয়ার অপ্রত্যাশিত জটিলতা

    একসময় দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্মে একত্রিত করা সরকারের একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। কিন্তু জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পর এর বাস্তবায়নে সরকারের ব্যর্থতা এক অপ্রত্যাশিত জটিলতার জন্ম দিয়েছে। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, সরকার যেদিকে অগ্রসর হবে, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিও সেদিকেই মোড় নেবে। যদি সরকার নির্বাচনের তফসিলের দিকে মনোনিবেশ করে, তাহলে অন্য সকল পক্ষও সেই পথেই হাঁটবে। এমন পরিস্থিতিতে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা কম, কারণ নির্বাচন পিছিয়ে গেলে সকল রাজনৈতিক দলই ক্ষতিগ্রস্ত হবে – এই সত্যটি তাদের অজানা নয়। গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক মনে করেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং স্বচ্ছতা এই মুহূর্তে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

    Recent Articles

    Related Stories

    Leave A Reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here