বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির পদে ডা. শফিকুর রহমান ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য তৃতীয়বারের মতো পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই পুনর্নির্বাচন তাকে সংগঠনের শীর্ষ পদে আরও তিন বছর বহাল রাখবে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে কেন্দ্র করে আগামী শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যা রাজধানী ঢাকার মগবাজারস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে।
শপথ গ্রহণ ও বার্ষিক অধিবেশন
দলের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, আগামী ২৮ ও ২৯ নভেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার বার্ষিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই দুই দিনব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্ব অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য আমির হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন। এটি দলের গঠনতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কারা?
এই বিশেষ শপথ গ্রহণ ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়াও, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সকল সম্মানিত সদস্যগণ এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে উপস্থিত থাকবেন। এই সমাবেশ দলের অভ্যন্তরীণ সংহতি এবং জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এর অবস্থানকে তুলে ধরবে।
তৃতীয় মেয়াদের ঐতিহাসিক তাৎপর্য
উল্লেখ্য, গত ২ নভেম্বর এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ডা. শফিকুর রহমানের তৃতীয় মেয়াদে আমির হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। দলের ইতিহাসে এই ঘটনা অত্যন্ত বিরল এবং তাৎপর্যপূর্ণ। এর পূর্বে মাত্র দুইজন বরেণ্য নেতা, অধ্যাপক গোলাম আযম এবং মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, টানা তিনবার জামায়াতের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করার গৌরব অর্জন করেছিলেন। ডা. শফিকুর রহমান এখন সেই ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ সারিতে স্থান করে নিলেন, যা তার নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতার প্রতি দলের আস্থা প্রতিফলিত করে।
আমির নির্বাচন প্রক্রিয়া
সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় কাউন্সিলের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ সরাসরি গোপন ভোটের মাধ্যমে তিন বছরের মেয়াদের জন্য আমির নির্বাচন করেন। এই পদ্ধতি দলের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক চর্চাকে সুদৃঢ় করে এবং নেতৃত্বের প্রতি কর্মীদের আস্থা নিশ্চিত করে। নির্বাচিত আমিরকে তার দায়িত্বভার গ্রহণের জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তাকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করতে হয়, যার মাধ্যমে তার উপর অর্পিত গুরুদায়িত্বের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় এবং তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
