বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রায়শই নির্বাচনী প্রচারণার সময় সংঘাতের ঘটনা ঘটে থাকে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে বিঘ্নিত করে। এমনই এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে পাবনার ঈশ্বরদীতে ঘটে যাওয়া একটি সাম্প্রতিক ঘটনা তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অভিযোগ করেছে যে, তাদের নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিএনপি এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে।
ঈশ্বরদীতে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় জামায়াতের পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ
এই প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়েছে গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) গভীর রাতে, দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে। বিবৃতিতে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় বিএনপির নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমে অংশ নেওয়া শান্তিপূর্ণ নেতাকর্মী ও নিরীহ সাধারণ জনতার উপর স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর অস্ত্রধারী কর্মীরা এক সুপরিকল্পিত ও বর্বরোচিত আক্রমণ চালায়। এই ন্যাক্কারজনক হামলায় প্রায় অর্ধশতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যা ঘটনার ভয়াবহতা প্রমাণ করে।
বিএনপির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে, এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন স্বয়ং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী আবু তালেব মন্ডল। বিবৃতিতে ঘটনার মূল কারণ হিসেবে জামায়াত কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণার বিতর্কিত কৌশলকে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাদের প্রচারে “সহজাত ধর্মীয় প্রলোভন” এবং “জান্নাতের টিকিট বিক্রির মতো আপত্তিকর বিষয়কে” নির্বাচনী উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। এই ধরনের প্রচারণার কারণে ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয় এবং তারা এর বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানান। এর প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতের কর্মীরা প্রথমে সাধারণ প্রতিবাদকারীদের ওপর মারমুখী আক্রমণ শুরু করে। পরবর্তীতে, কোনো রকম প্ররোচনা ছাড়াই, শান্তিপূর্ণভাবে প্রচাররত বিএনপির নেতাকর্মীরা আকস্মিকভাবে এই সহিংস আক্রমণের শিকার হন।
গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং জামায়াতের উগ্রতার চিত্র
বিএনপি তাদের অভিযোগের সপক্ষে জোরালো প্রমাণ হিসেবে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় প্রকাশিত একটি ছবির কথা উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয় যে, ওই ছবিতে জামায়াত কর্মী তুষারকে স্পষ্টভাবে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে আক্রমণ করতে দেখা গেছে, যা হামলার পূর্বপরিকল্পনা এবং সহিংসতার মাত্রা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেয়। এর বিপরীতে, বিএনপি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে যে, কতিপয় গণমাধ্যম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ পরিবেশন করছে, যা মূল সত্যকে আড়াল করার একটি অপচেষ্টা।
এই সহিংস ঘটনাটির মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর উগ্র ও সহিংস রাজনৈতিক চরিত্রের নগ্ন চিত্র দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে বিএনপি দৃঢ়ভাবে দাবি করেছে। দলটি পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, তারা সর্বদা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক চর্চায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং গণতন্ত্র ও সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। জামায়াতের এমন অযৌক্তিক দাবি-দাওয়া ও সহিংস পন্থা কেবল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকেই ক্ষুণ্ণ করছে না, বরং একটি সুস্থ নির্বাচনী সংস্কৃতিকেও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের জন্য এমন উগ্র কৌশল অবলম্বন করা কখনোই কাম্য নয় এবং এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বিএনপি এই হামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে এবং জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানিয়েছে। একই সাথে তারা সকল রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন এমন অগণতান্ত্রিক, সহিংস ও উস্কানিমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়, যাতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু এবং অবাধ হতে পারে।
