বর্তমান দিনগুলিতে সামাজিক মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্য ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় মেধা, নৈতিকতা এবং সঠিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার তার বক্তব্যে আরোপিত মিথ্যা প্রচারণাকে চিহ্নিত করে বলেছিলেন, “সকল ধরনের ষড়যন্ত্রকে মেধা ও নৈতিক আদর্শের শক্তি দিয়ে মোকাবিলা করতে হবে।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় জামায়াত-শিবির উপলক্ষ্যে নানা ধরনের মিথ্যা এবং ভুয়া তথ্য প্রচারিত হচ্ছে — এই বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তি শিখে বিরোধীদের অপপ্রচারের সঠিক ও তথ্যবহুল জবাব প্রদান করা এখন সময়ের দাবি।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন দিগন্ত
মঙ্গলবার সকালে খুলনা-৫ আসনের শাহপুর আঞ্চলিক অফিসে ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া, রঘুনাথপুর, রুদাঘরা ইউনিয়ন ভোটকেন্দ্র প্রতিনিধিদের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময়, গোলাম পরওয়ার স্পষ্টভাবে শ্রোতাদের জানিয়ে দেন, “জামায়াত কখনো ক্ষমতায় যায়নি, এ বার ভোটের দ্বারা পরীক্ষা করুন।” তার এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার হয় যে, দলের নীতিমালা ও আদর্শে বিশ্বাসী জনগণের সামনে নিজের অবস্থান উন্মুক্তভাবে প্রকাশ করতে তিনি প্রস্তুত।
তার আরও বাণী ছিল, “ডাকসু, জাকসু, চাকসু ও রাকসুতে ছাত্রশিবির তার দক্ষতা ও প্রতিভার সুনাম রেখে এসেছে। সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ছাত্রসংসদের মাধ্যমে ছাত্রশিবিরের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে।” তিনি বিশ্বাস করেন যে, লেখাপড়ার পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে ছাত্রশিবির আবারও তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবস্থাপনাকে কাজে লাগিয়ে জামায়াতের কল্যাণমুখী রাজনীতি এবং দেশপ্রেমের বার্তা সাধারণ জনগণের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি, ময়দানে সত্যের পক্ষে ব্যালট বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে বাংলাদেশ
সেই সাথে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই একটি ইতিবাচক ও স্বচ্ছ অবস্থানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। জুলাই সনদে স্বাক্ষরিত মনোভাব প্রকাশ করে, নতুন নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক ও বিচার সংক্রান্ত নানা অঙ্গসংস্থাকে নতুন করে সাজানো হয়েছে, যাতে করে কখনোই শাসন ব্যবস্থায় কর্তৃত্ববাদী স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদ প্রবেশ করতে না পারে।
সর্বোপরি, গোলাম পরওয়ার তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন যে, “একটি পক্ষ হিসেবে জামায়াতের গণজোয়ার রুখে আমরা দেশের উন্নয়ন ও সুশাসনের পথে অগ্রসর হবো,” যা দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করবে।
এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে, বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং ডেমোক্রেসির উন্নয়নের পথে জামায়াত-ইসলামীর সক্রিয় ভূমিকা ভূমিকম্পের মতো পরিবর্তনের সূচনা করবে।
