More

    লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের কাছে ইজারার প্রতিবাদে মশালমিছিল

    চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল ও পানগাঁও নৌ টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরদের কাছে ইজারা দেওয়ার বিতর্কিত সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দেশজুড়ে তীব্র জনমত তৈরি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘বন্দর রক্ষা ও করিডরবিরোধী আন্দোলন’ গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে এক জোরালো মশালমিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। এই সমাবেশ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি অবিলম্বে এই চুক্তি বাতিল করে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা আন্দোলনকারীদের মতে দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি।

    গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় শাহবাগের প্রাণকেন্দ্রে আয়োজিত এই মশালমিছিলটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এক প্রতিবাদী পরিবেশ সৃষ্টি করে। মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা সরকারের বিতর্কিত পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশের অন্যতম লাভজনক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, চট্টগ্রামের লালদিয়া বন্দর একটি বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিল। বক্তারা আরও বলেন যে, সরকার জনগণের মতামত ও ক্রমবর্ধমান জনরোষকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে অত্যন্ত অস্বচ্ছ ও তড়িঘড়ি করে এই দেশবিরোধী চুক্তি সম্পাদন করেছে। এমন একটি পদক্ষেপ দেশের সার্বিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে বলে তারা জোরালো সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন।

    জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও কঠোর হুঁশিয়ারি

    বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, যদি সরকার তার বর্তমান অবস্থান থেকে সরে না আসে এবং এই দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল না করে, তবে তাদেরকে গুরুতর রাজনৈতিক পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। তাঁরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণের স্বার্থ ও জাতীয় সম্পদকে জলাঞ্জলি দিয়ে পরিচালিত এই ধরনের কার্যকলাপের জন্য সরকারকেও অনুরূপ তীব্র গণরোষ ও রাজনৈতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে, যেমনটি অতীতে জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী কাজের জন্য বিভিন্ন সরকারকে মোকাবিলা করতে হয়েছে। বক্তারা এই চুক্তিকে জাতীয় সম্পদ লুটের এক হীন অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করে এর আশু বাতিলের দাবি জানান।

    সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ এই প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এবং ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ সভা সঞ্চালনা করেন। এছাড়াও, দেশের বিভিন্ন প্রগতিশীল ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বরা হলেন উদীচীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকান্দার হায়াত, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার, যুব ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন ভুঁইয়া, ছাত্রলীগ (বিসিএল) সভাপতি গৌতম শীল, ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দিন এবং ছাত্রলীগ (বিসিএল) সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান প্রমুখ। উপস্থিত সকলেই বন্দরের ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ ও ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

    Recent Articles

    Related Stories

    Leave A Reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here