ভারতে পলাতক জীবনযাপনকারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের একটি লকার থেকে ৮৩২ ভরি স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক ও আর্থিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যা তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনাটি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।
গত ২৫ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে আদালতের সুনির্দিষ্ট অনুমতি সাপেক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ অভিযানটি পরিচালিত হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি যৌথ তদন্তকারী দল একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অগ্রণী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট লকার দুটি উন্মোচন করে। এরপর লকার থেকে প্রাপ্ত উল্লিখিত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার বিধি মোতাবেক জব্দ করা হয়, যা তদন্তকারীদের মতে অবৈধ সম্পদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর লকার উন্মোচনে নজিরবিহীন পদক্ষেপ
এই ঘটনাটি দেশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এটিই প্রথমবার, যখন আদালতের নির্দেশক্রমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে থাকা কোনো ব্যাংক লকার খোলা হলো। এই পদক্ষেপ দেশের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইন সকলের জন্য সমান – এই নীতির দৃঢ় প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছে। এটি দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে সরকারের দৃঢ় সংকল্পের এক স্পষ্ট বার্তা বহন করে।
আর্থিক অসঙ্গতির তদন্ত: পূর্ববর্তী লকার জব্দ
উল্লখ্য, বর্তমান অভিযানটি পূর্ববর্তী তদন্তের ধারাবাহিকতা মাত্র। এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার দিলকুশায় অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখায় (সাবেক স্থানীয় কার্যালয় শাখা) সিআইসি শেখ হাসিনার নামে নিবন্ধিত দুটি লকার, যাদের নম্বর যথাক্রমে ৭৫১ ও ৭৫৩, জব্দ করেছিল। এই লকারগুলো জব্দ করার মূল উদ্দেশ্য ছিল, এগুলোর মাধ্যমে কোনো প্রকার কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে কিনা তা বিস্তারিত খতিয়ে দেখা এবং আর্থিক অসঙ্গতি খুঁজে বের করা। ওই সময় থেকেই এই লকারগুলোর উপর নিবিড় নজরদারি চলছিল।
তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে, সিআইসি তারও পূর্বে একটি অনুরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। গত ১০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সেনাকল্যাণ ভবনে অবস্থিত পূবালী ব্যাংকের মতিঝিল কর্পোরেট শাখার ১২৮ নম্বর লকারটিও সিআইসি কর্তৃক জব্দ করা হয়। এই ধারাবাহিক লকার জব্দ অভিযান সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকিং লেনদেন ও আর্থিক সম্পদের উপর চলমান সুদূরপ্রসারী তদন্তের ইঙ্গিত বহন করে, যা দেশের আর্থিক অপরাধ দমনে কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতির পরিচায়ক।
