আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে প্রদত্ত রায়কে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। এই রায় প্রকাশের পর রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন গভীর স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করেছে। একইসাথে, সংগঠনটি অনতিবিলম্বে এই বিচারিক রায় কার্যকরের জন্য জোর দাবি জানিয়েছে, যা তাদের মতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
রায়কে বিচারিক অগ্রগতির নিদর্শন হিসেবে আখ্যায়িত রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন
সোমবার এক বিস্তারিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম এই রায়কে ‘বিচারিক অগ্রগতির এক উজ্জ্বল ও সুদূরপ্রসারী নিদর্শন’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, এই রায় দেশের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং এটি প্রমাণ করে যে, যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব। কাইয়ূম আরও দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, এই রায়ের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে দেশের অন্যান্য সকল অপরাধের বিচার প্রক্রিয়াও যেন একইভাবে ন্যায়সঙ্গতভাবে ও সর্বোচ্চ দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হয়। এর মাধ্যমে সামগ্রিক বিচারিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে তিনি মনে করেন।
‘জুলাই যোদ্ধাদের’ বিজয় এবং রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের অপরিহার্যতা
বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ট্রাইব্যুনালের এই যুগান্তকারী রায়কে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ দীর্ঘদিনের সংগ্রাম এবং ত্যাগের প্রাথমিক বিজয় হিসেবে গণ্য করে। তাদের গভীর বিশ্বাস, এটি সেই সকল মানুষের প্রতি এক সশ্রদ্ধ স্বীকৃতি, যারা জুলাই মাসের চেতনা ও মূল্যবোধকে ধারণ করে একটি ন্যায্য ও জনমুখী সমাজের স্বপ্ন দেখেছেন। সংগঠনটি মনে করে, এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কার্যকারিতা এবং এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত নৈতিক ভিত্তি ব্যবহার করে রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল ও যথাযথ সংস্কার সাধন করা অপরিহার্য। জুলাইয়ের আদর্শকে সমুন্নত রেখে একটি প্রকৃত জনগণের মালিকানাধীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এই ধরনের একটি ব্যবস্থায় জনগণের সার্বিক অধিকার সুরক্ষিত হবে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বিকেন্দ্রীভূত হবে এবং সকল স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, এ দেশের আপামর জনসাধারণের প্রকৃত মুক্তি, শান্তি ও বিজয় এই ন্যায়ভিত্তিক এবং গণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার মধ্যেই নিহিত, যা দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্য।
