ঢাকার অদূরে সাভারের আশুলিয়া এলাকার বাইপাইলে আজ শনিবার সকালে স্বল্প মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। পরপর দু’দিন ভূকম্পনের ঘটনা জনমনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই মৃদু কম্পনটি এমন এক সময়ে অনুভূত হলো যখন দেশ সবেমাত্র গতকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের রেশ কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।
সর্বশেষ ভূমিকম্প: সাভারের আশুলিয়ায় স্বল্প মাত্রার কম্পন
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট ১২ সেকেন্ডে এই ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩.৩। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল চিহ্নিত করা হয়েছে বাইপাইল এলাকাতেই। যদিও এই কম্পনটি তুলনামূলকভাবে মৃদু প্রকৃতির ছিল এবং প্রাথমিকভাবে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া তীব্র ভূমিকম্পের পরিপ্রেক্ষিতে এটি জনমনে এক ধরনের সতর্কতা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।
পূর্ববর্তী দিনের প্রবল ভূমিকম্প: দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি
ঠিক এক দিন আগে, গত শুক্রবার সকালে, দেশ এক ভয়াবহ ভূমিকম্পের সাক্ষী হয়েছিল। সেই দিনের প্রবল কম্পনে রাজধানী ঢাকা সহ বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্রবলভাবে কেঁপে ওঠে, যা জনজীবনে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে শিশুসহ দশজনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হন। এই বিধ্বংসী কম্পন মানুষের মনে গভীর ছাপ ফেলে গেছে।
মৃতদের মধ্যে পাঁচজন ছিলেন নরসিংদীর বাসিন্দা, যা একক জেলা হিসেবে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রাণহানি। এছাড়া, ঢাকায় চারজন এবং নারায়ণগঞ্জে একজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ভূমিকম্পের প্রভাবে সৃষ্ট প্রচণ্ড আতঙ্ক জনজীবনকে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে তোলে। বহু মানুষ জীবন বাঁচাতে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে এবং হাসপাতালগুলোতে জরুরি রোগীর ভিড় বেড়ে যায়।
পাশাপাশি, এই তীব্র ভূমিকম্পের ফলে কিছু ভবনে ফাটল দেখা যায় এবং বেশ কিছু স্থাপনা হেলে পড়ার ঘটনাও ঘটে, যা অবকাঠামোগত ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ও অন্যান্য নির্মাণাধীন ভবনে ক্ষতির চিহ্ন স্পষ্ট দেখা যায়। উল্লেখ্য, শুক্রবার ঘটে যাওয়া সেই বিধ্বংসী ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী জেলার মাধবদী। মাত্র একদিনের ব্যবধানে একই অঞ্চলে পুনরায় ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় জনমনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং ভূকম্পন প্রবণতা বৃদ্ধির কারণ ও এর প্রতিকার নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
