উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের এক শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে বার্সেলোনাকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে তাদের একতরফা আধিপত্য প্রমাণ করেছে চেলসি। মঙ্গলবার স্টামফোর্ড ব্রিজে অনুষ্ঠিত এই লড়াইয়ে ব্লুজরা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের যেন কোনো পাত্তাই দেয়নি। যদিও চেলসির তিনটি নিশ্চিত গোল বাতিল হয়েছে, তবুও তাদের দাপট বিন্দুমাত্র কমেনি। এই জয় চেলসির ইউরোপীয়ান যাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে বার্সেলোনাকে তাদের দুর্বলতাগুলো নতুন করে ভেবে দেখতে হবে।
চেলসির অপ্রতিরোধ্য আগ্রাসন
ম্যাচের শুরু থেকেই চেলসির খেলোয়াড়রা সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী ছিল, বার্সেলোনার রক্ষণভাগকে বারবার পরীক্ষায় ফেলছিল। যদিও প্রথমার্ধে তিনটি গোল বাতিল হয়ে যায়, এর মধ্যে ওয়েসলি ফোফানার হ্যান্ডবলের কারণে এনজো ফার্নান্দেজের একটি এবং অফসাইডের কারণে পেদ্রো নেটোর আরেকটি গোল ছিল, যা তাদের আক্রমণাত্মক মানসিকতা এবং গোল করার দৃঢ় সংকল্পের প্রমাণ দেয়। এই সব বাধার মুখেও চেলসি তাদের আক্রমণের ধার বজায় রেখেছিল, যা শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইনে প্রতিফলিত হয়েছে। বার্সেলোনা এই ম্যাচে ছিল একেবারেই নিষ্প্রভ এবং ছন্নছাড়া, কোনো প্রতিরোধই যেন তাদের তরফ থেকে দেখা যায়নি।
২৭তম মিনিটে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত প্রথম গোলটি আসে। একটি বুদ্ধিদীপ্ত শর্ট কর্নার থেকে চমৎকার বিল্ড আপের মাধ্যমে চেলসি বার্সেলোনার বিপদসীমায় ঢুকে পড়ে। বার্সেলোনার রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জুলস কুন্দের একটি ভুল সিদ্ধান্ত চেলসিকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। এই গোলের পর বার্সেলোনার ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়, কারণ তারা তখন পর্যন্ত ম্যাচে নিজেদের সেভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।
তরুণ প্রতিভার ঝলক: এস্তেভাও বনাম ইয়ামাল
এই চ্যাম্পিয়নস লিগ দ্বৈরথের আগে, দুই দলের দুই তরুণ প্রতিভা—চেলসির ১৮ বছর বয়সী এস্তেভাও এবং বার্সেলোনার লামিন ইয়ামাল—আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। তবে ম্যাচের দিন, স্টামফোর্ড ব্রিজের সবুজ গালিচায় এস্তেভাও তার প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটিয়েছেন, ইয়ামালকে যেন পুরোপুরি ম্লান করে দিয়েছেন। ১০ জনের বার্সেলোনার বিপক্ষে এস্তেভাওয়ের একক নৈপুণ্যে করা গোলটি ছিল truly অসাধারণ এবং দৃষ্টিনন্দন, যা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়।
এস্তেভাওয়ের অসাধারণ গোল ও ম্যাচের মোড়
দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র ১০ মিনিট পর, এস্তেভাও তার অনন্য প্রতিভার প্রমাণ দেন। ডান দিক থেকে বল নিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে এসে তিনি দুজন ডিফেন্ডারকে অনায়াসে কাটিয়ে দেন। এরপর তিনি বার্সেলোনার গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়াকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান, যা ছিল চলতি মৌসুমে ক্লাব ও দেশের হয়ে তার দশম গোল। এই গোলের মাধ্যমে চেলসি ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় এবং বার্সেলোনার জন্য ম্যাচ জয় প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে, কারণ তারা তখন ১-০ গোলে পিছিয়ে এবং ১০ জনের দল নিয়ে খেলছিল। এস্তেভাওয়ের এই গোল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং চেলসির জয়ের পথ সুগম করে।
লিয়াম ডেলাপের গোল ও ভিএআর নাটকের ইতি
৭৩তম মিনিটে বদলি ফরোয়ার্ড লিয়াম ডেলাপ চেলসির তৃতীয় গোলটি করেন, যা তাদের জয়কে আরও সুনিশ্চিত করে তোলে। গোলটি প্রথমে অফসাইড ঘোষণা করা হলেও, পরবর্তীতে ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির সাহায্যে সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। এই গোলটি বার্সেলোনার ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ আশাটুকুও নিভিয়ে দেয় এবং চেলসিকে এক বিশাল জয় এনে দেয়।
এই ম্যাচে চেলসি কেবল জয়লাভই করেনি, বরং নিজেদের শারীরিক শক্তি, আক্রমণাত্মক কৌশল এবং তরুণ খেলোয়াড়দের মেধার সঠিক সমন্বয়ের প্রমাণও দিয়েছে। অন্যদিকে, বার্সেলোনাকে তাদের রক্ষণাত্মক দুর্বলতা এবং আক্রমণভাগে ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে, যদি তারা ইউরোপীয়ান ফুটবলে নিজেদের শীর্ষস্থানে ধরে রাখতে চায়। চেলসির এই জয় চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চে তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
