More

    যে কারণে বাংলাদেশের কাছে ‘কৃতজ্ঞ’ উইন্ডিজ শিবির

    ক্রিকেটের রোমাঞ্চকর অঙ্গনে সুপার ওভার বরাবরই এক শ্বাসরুদ্ধকর অধ্যায়। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন এক স্নায়ুক্ষয়ী পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল টাইগাররা। নিজেদের প্রথম সুপার ওভারে মাঠে নামাটা একদিকে যেমন ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, তেমনই এর ফলাফল বয়ে এনেছে গভীর হতাশা। মাত্র ১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে ব্যর্থ হয়ে উইন্ডিজের কাছে ম্যাচ হেরে সিরিজে সমতা ফেরাতে বাধ্য হয়েছে স্বাগতিক দল। এই পরাজয় কেবল একটি ম্যাচ হারানো নয়, বরং দলের কৌশলগত কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, যা এমনকি প্রতিপক্ষ শিবিরকেও বিস্মিত করেছে।

    প্রথম সুপার ওভারের তিক্ত অভিজ্ঞতা

    ক্রিকেটপ্রেমীরা গতরাতে সাক্ষী হয়েছিল এক অভাবনীয় দৃশ্যের—বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচে টাই হওয়া এবং ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সুপার ওভার খেলা। তবে এই ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা মধুর হয়নি। মাত্র ১১ রানের তুলনামূলক সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দল নির্ধারিত ৬ বলে প্রয়োজনীয় রান সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এক রুদ্ধশ্বাস জয় ছিনিয়ে নিয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়ে এনেছে, যা তাদের জন্য ছিল এক দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প। অন্যদিকে, বাংলাদেশের জন্য এটি ছিল এক সুযোগ হারানো এবং একই সাথে ভবিষ্যতের জন্য এক মূল্যবান শিক্ষা।

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের কৃতজ্ঞতা ও বিস্ময়

    ম্যাচ জয়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবির বাংলাদেশ দলের প্রতি এক প্রকার কৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করেছে। তাদের বিশ্বাস, সুপার ওভারের একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত তাদের জয়কে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে। উইন্ডিজ দলের অভ্যন্তরে এই ম্যাচের কৌশলগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং বাংলাদেশের নেওয়া একটি পদক্ষেপ তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে বলেই তারা মনে করছে। এই অপ্রকাশিত কৃতজ্ঞতার পেছনে লুকিয়ে ছিল বাংলাদেশের এক বিস্ফোরক ব্যাটারের অনুপস্থিতি, যা নিয়ে প্রতিপক্ষ দলের মধ্যেও বিস্ময় ছিল চোখে পড়ার মতো।

    রিশাদ হোসেন: সিরিজজুড়ে বাংলাদেশের তুরুপের তাস

    চলতি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে সফরকারী দলের বোলারদের, বিশেষ করে স্পিনারদের, সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছেন কোন বাংলাদেশি ব্যাটার? উত্তরটি একবাক্যে হবে– রিশাদ হোসেন। তার বিধ্বংসী ব্যাটিং ক্যারিবীয় বোলারদের ওপর রীতিমতো ঝড় বইয়ে দিয়েছিল। দুই ম্যাচেই তিনি তার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষকে দিশেহারা করে তোলেন। প্রশ্ন উঠেছে, এমন একজন কার্যকর ব্যাটারকে কেন সুপার ওভারে ব্যাট হাতে পাঠানো হয়নি? এই সিদ্ধান্তই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

    রিশাদ মিরপুরের মন্থর উইকেটেও নিজের ব্যাটিং নৈপুণ্যের ফুল ফুটিয়েছিলেন। প্রথম ম্যাচে তিনি মাত্র ১৩ বলে ২৬ রান করে দলের স্কোরবোর্ডে মূল্যবান অবদান রেখেছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে তার ব্যাট আরও বেশি আগ্রাসী ও বিধ্বংসী রূপে আবির্ভূত হয়, যেখানে তিনি মাত্র ১৪ বলে খেলেন ৩৯ রানের এক অবিশ্বাস্য, অপরাজিত ইনিংস। তার এই দুটি ইনিংসই ছিল স্ট্রাইক রেটের দিক থেকে অত্যন্ত কার্যকর এবং প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার জন্য যথেষ্ট। এমন একজন ফর্মে থাকা ও প্রতিপক্ষের কাছে ত্রাস সৃষ্টিকারী ব্যাটারকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বাদ দেওয়াটা সত্যিই প্রশ্নবিদ্ধ।

    বিস্ময়কর কৌশলগত সিদ্ধান্ত: রিশাদকে বাদ দেওয়ার কারণ?

    সুপার ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বল করতে এসেছিলেন আকিল হোসেইন। মজার বিষয় হলো, মূল ম্যাচে এই আকিলের শেষ ওভারেই রিশাদ একাই ১৬ রান তুলেছিলেন। সুপার ওভারে আকিল হোসেইন যদিও ৯ রান দিয়েছিলেন, যার মধ্যে ২টি ওয়াইড এবং ১টি নো বল ছিল, এরপরও রিশাদকে ব্যাটিংয়ের জন্য বিবেচনা করা হয়নি। এই সিদ্ধান্তটি সত্যিই ছিল অপ্রত্যাশিত এবং রহস্যময়। টিম ম্যানেজমেন্টের এমন সিদ্ধান্ত দেখে কেবল বাংলাদেশের সমর্থকরাই নয়, উইন্ডিজ শিবিরেও বিস্ময়ের শেষ ছিল না।

    আকিল হোসেইনের খোলাসা মন্তব্য

    সুপার ওভারে রিশাদকে না দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে উইন্ডিজের প্রতিনিধি আকিল হোসেইন সরাসরিই তার মন্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি কিছুটা অবাকই হয়েছিলাম। যে ম্যাচে সে (রিশাদ) সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল, মাত্র ১৪ বলে ৩৯ রানের এক অপরাজিত ইনিংস খেলেছিল, সে নামলই না সুপার ওভারে। ছোট দিকের সীমানার দিকে সে যে দুটি ছক্কা মেরেছিল, ঠিক সেভাবে আবারও মারার সক্ষমতা তার ছিল।” আকিলের এই মন্তব্য বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তের ওপর আরও আলোকপাত করে। রিশাদের অনুপস্থিতি যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য এক বড় সুবিধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তা আকিলের কথাতেই স্পষ্ট। এই সুযোগ কাজে লাগিয়েই তারা ম্যাচটি নিজেদের করে নিয়েছে, যা সিরিজে তাদের দারুণভাবে ফিরিয়ে এনেছে। বাংলাদেশের জন্য এই অভিজ্ঞতা সম্ভবত ভবিষ্যতের কৌশলগত পরিকল্পনায় এক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হয়ে থাকবে।

    Recent Articles

    Related Stories

    Leave A Reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here