উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সাম্প্রতিক এক মঙ্গলবার রাতে ফুটবলপ্রেমীরা এক অবিশ্বাস্য গোলবন্যার সাক্ষী হলেন। ইউরোপের সেরা ক্লাব ফুটবলের এই মহারণে অনুষ্ঠিত নয়টি ম্যাচে মোট ৪৩টি গোল হয়েছে, যা এক রাতের হিসেবে এক অভূতপূর্ব রেকর্ড। এই গোল উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ফ্রান্সের শিরোপাধারী দল প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি), যারা জার্মানির মাটিতে গিয়ে স্বাগতিক বায়ার লেভারকুসেনকে ৭-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে। এটি শুধু একটি জয় ছিল না, ছিল এক অপ্রতিরোধ্য পারফরম্যান্সের দৃষ্টান্ত।
পিএসজি’র ঐতিহাসিক জয় ও অনন্য রেকর্ড
লেভারকুসেনের বিপক্ষে পিএসজি’র এই দাপুটে প্রদর্শনীতে একাধিক খেলোয়াড় গোল উৎসবে শামিল হয়েছেন। তরুণ তারকা দেজিরে দুয়ে তাঁর ঝলক দেখিয়ে দুটি গোল করেছেন, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। এছাড়া, উইলিয়ান পাচোর দারুণ ফিনিশিং, খভিচা কভারাতস্কেলিয়ার নিখুঁত শট, নুনো মেন্ডেসের চমৎকার গোল, ওসমান দেম্বেলের প্রত্যাবর্তনের গোল এবং ভিতিনিয়ার অনবদ্য প্রচেষ্টায় স্কোরলাইন আরও সমৃদ্ধ হয়। অন্যদিকে, বায়ার লেভারকুসেনের হয়ে দুইটি সান্ত্বনাসূচক গোল করেছেন আলেইক্স গার্সিয়া।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই দুই দলের একজন করে খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন – লেভারকুসেনের রবার্ট আন্দরিখ এবং পিএসজি’র ইলিয়া জাবারনি। তবে এতে পিএসজি’র আক্রমণের ধার কমেনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নুনো মেন্ডেস গোল করে ব্যবধান বাড়ান, যা দলের আত্মবিশ্বাস আরও তুঙ্গে নিয়ে যায়। বিশেষ করে, সম্প্রতি ব্যালন ডি’অর জয়ের পর এটিই ছিল ওসমান দেম্বেলের প্রথম ম্যাচ, এবং তিনি গোল দিয়ে নিজের আগমনী বার্তা দেন, যা দলের জন্য ছিল এক বাড়তি অনুপ্রেরণা।
এই ম্যাচটি পিএসজি’র জন্য একাধিক কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এই প্রথম তারা প্রতিপক্ষের মাঠে সাত গোল করার কীর্তি স্থাপন করল। এই ঐতিহাসিক জয়ের ফলে, তিন ম্যাচ শেষে তারা সর্বোচ্চ ৯ পয়েন্ট নিয়ে তাদের গ্রুপে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে, যা তাদের নক-আউট পর্বের পথকে অনেকটাই সুগম করেছে।
অন্যান্য ম্যাচের গোলবন্যা ও উল্লেখযোগ্য ফলাফল
একই রাতে গোলবন্যার এই রাতে বার্সেলোনা এবং পিএসভি আইন্দহোভেনও তাদের প্রতিপক্ষকে ছয় গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে জয়ের হাসি হেসেছে। ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল তাদের শক্তিশালী পারফরম্যান্স অব্যাহত রেখে আতলেতিকো মাদ্রিদকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি ভিয়ারিয়ালের মাঠে তাদের আধিপত্য বজায় রেখে ২-০ গোলের এক কৌশলী জয় তুলে নিয়েছে।
ইন্টার মিলান ও ম্যানচেস্টার সিটির জয়রথ
ইতালির জায়ান্ট ক্লাব ইন্টার মিলান তাদের শতভাগ জয়ের রেকর্ড অক্ষুণ্ণ রেখেছে। তারা ইউনিয়ন সেইন্ট জিলোইঁকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে। ইন্টারের এই জয়ে গোলদাতাদের মধ্যে ছিলেন ডেনজেল ডুমফ্রিস, তারকা ফরোয়ার্ড লাওতারো মার্টিনেজ, মিডফিল্ড জেনারেল হাকান চালহানওলু এবং উঠতি তারকা পিও এসপোসিতো। তাদের এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স শিরোপা জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে আরও একবার গোল করেছেন ইউরোপিয়ান ফুটবলের নতুন সেনসেশন আরলিং হালান্ড। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে তিনিই প্রথম গোলটি করেন, এবং দ্বিতীয় গোলটি আসে অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার বার্নার্দো সিলভার পা থেকে। ম্যাচ শেষে দলের কোচ পেপ গার্দিওলা বলেন, “দল প্রতিদিন একটু একটু করে ভালো হচ্ছে, এটা ভালো লক্ষণ।” তাঁর এই মন্তব্য দলের বর্তমান ফর্ম এবং ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।
পিএসভি আইন্দহোভেনের চমকপ্রদ জয়
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে আরও একটি উল্লেখযোগ্য জয় তুলে নিয়েছে পিএসভি আইন্দহোভেন। তারা ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়ন নাপোলিকে ৬-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে। পিএসভি-র হয়ে গোলদাতাদের মধ্যে ছিলেন ইসমায়েল সাইবারি এবং ডেনিস সহ আরও অনেকে। তাদের এই অপ্রতিরোধ্য জয় ইউরোপিয়ান ফুটবলে তাদের সক্ষমতার বার্তা দিয়েছে।
