সম্প্রতি রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর পর বিশ্বব্যাপী সোনার বাজারে মৃদু হলেও আতঙ্কজনক পতনের সূচনা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের লাভ নিশ্চিত করার আকাঙ্ক্ষা আর অতিরিক্ত চাপের ফলে এই পতনের সম্ভাবনা বেড়ে গেছে।
মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, সোনা বেচাকেনায় প্রায় ৫.২% হ্রাস পেয়ে আউন্সপ্রতি ৪,১৩0.40 ডলারে নামতে দেখা যায়। এই হ্রাসের পরিমাণ অতীতের তুলনায় একদিনে সর্বাধিক পতনের মধ্যে পড়ছে, যা করোনা মহামারির সূচনার পর থেকে দেখা যায়নি।
সোনার আন্তর্জাতিক বাজারে বিদ্যমান পরিবর্তন
সোমবার, ২০ অক্টোবর, সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪,৩৮১.৫২ ডলারে পৌঁছেছিল। এই রেকর্ড স্তরের পিছনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিনিয়োগকারীদের এই কাজই বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টির মূল কারণ, যা হঠাৎ করে মূল্যহ্রাসের দিকে নিয়ে গেছে।
বাংলাদেশের বাজারেও সোনার দাম তরঙ্গান্তর করছে। ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি (প্রায় ১১৬৬.৪ গ্রাম) দাম বর্তমানে প্রায় ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে। এই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) কর্তৃক, যা বাজারে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি এক অপূর্ব সময় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক দিনের উল্লিখিত পরিবর্তনগুলো শুধু আন্তর্জাতিক বাজারে নয়, দেশের অভ্যন্তরে বিনিয়োগের মনোভাব ও বাজারের গতিপ্রকৃতি উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।
বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের উচিত নিশ্চিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং বাজারের ওঠাপড়া সম্পর্কে নিবিড় নজর রাখা। অতএব, সোনার দাম ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট বৈশ্বিক ও দেশীয় পরিবর্তনের প্রতি নজর রাখতে বিনিয়োগকারীদের যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার।
