বাংলাদেশের সমৃদ্ধ মৎস্য সম্পদ এবং রন্ধনশিল্পের বিশ্বজোড়া খ্যাতি রয়েছে। এই ঐতিহ্যকে নেপালে তুলে ধরতে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে কাঠমান্ডুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি, ‘বাংলাদেশ ফিশ ফেস্টিভ্যাল’ এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনাপর্ব হিসেবে দূতাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়েছিল এক জমকালো বাংলাদেশি মাছের প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনীটি শুধু নেপালের বাজারেই নয়, বিশ্ব মঞ্চে বাংলাদেশের মৎস্য শিল্পের অমিত সম্ভাবনাকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।
নেপালের মাটিতে বাংলাদেশি মাছের প্রদর্শনী: এক সফল আয়োজন
গত ২৭ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার, বিকাল ৪টায় কাঠমান্ডুস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণ মেতে উঠেছিল বাংলাদেশের নদ-নদী ও সমুদ্রের সুস্বাদু মৎস্য বৈচিত্র্যে। এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় মৎস্য রপ্তানিকারকরা তাদের উৎপাদিত মাছের সম্ভার নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল নেপালের হসপিটালিটি খাতের সঙ্গে বাংলাদেশের মৎস্য রপ্তানিকারকদের সরাসরি যোগসূত্র স্থাপন করা, যা পারস্পরিক অর্থনৈতিক বিনিময়কে উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানে নেপালের বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্ট এবং রেস্তোরাঁর শীর্ষ ব্যবস্থাপক, নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ এবং মৎস্য আমদানির সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ব্যাপক আগ্রহের সাথে যোগদান করেন। তাদের উপস্থিতি প্রদর্শনীর তাৎপর্য আরও বাড়িয়ে তোলে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে মৎস্য বাণিজ্য প্রসারের উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি করে এবং বাংলাদেশি মাছের জন্য নেপালের বাজারে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য এবং প্রত্যাশা
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দের পক্ষ থেকে হোটেল অ্যাসোসিয়েশন অব নেপাল (HAN) এর সভাপতি জনাব বিনায়ক শাহ এই ধরনের দূরদর্শী আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই উদ্যোগ নেপালের আতিথেয়তা শিল্পে বাংলাদেশি মাছের চাহিদা ও সরবরাহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং উভয় দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করবে।
স্বাগত বক্তব্যে, বাংলাদেশের মাননীয় রাষ্ট্রদূত দেশের মিঠাপানি ও সামুদ্রিক মাছের অতুলনীয় স্বাদ এবং বৈচিত্র্যময় রন্ধনশৈলির ওপর বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি বাংলাদেশি রন্ধনপ্রণালীতে মাছের বহুবিধ ব্যবহার এবং এর বিশ্বব্যাপী খ্যাতি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, যা বাংলাদেশের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের মৎস্য খাতের রপ্তানিমুখী সম্ভাবনা এবং এই খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি নেপালের আতিথেয়তা খাতের সকল অংশগ্রহণকারী এবং HAN-এর সভাপতিকে প্রদর্শনীতে যোগদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে এবং মৎস্য শিল্পে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
আসন্ন ‘বাংলাদেশ ফিশ ফেস্টিভ্যাল ২০২৫’
উল্লেখযোগ্যভাবে, কাঠমান্ডু বাংলাদেশ দূতাবাস আগামী ২৮ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে দূতাবাস প্রাঙ্গণেই একটি বৃহত্তর পরিসরে ‘বাংলাদেশ ফিশ ফেস্টিভ্যাল’ আয়োজন করতে যাচ্ছে। এই উৎসবটি বাংলাদেশের মৎস্য শিল্পের জন্য একটি মাইলফলক হতে চলেছে, যেখানে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মৎস্যজাত পণ্যের ব্যাপক প্রচার ও প্রসার ঘটবে। আশা করা হচ্ছে, এই ঐতিহাসিক আয়োজনে বিপুল সংখ্যক কূটনীতিক, নেপাল সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং নেপালের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাগণ উপস্থিত থাকবেন। এই উৎসবের মাধ্যমে বাংলাদেশের মাছের এক নতুন বাজার সৃষ্টি হবে এবং নেপালের সংস্কৃতিতে বাংলাদেশি মাছ আরও পরিচিতি লাভ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি শুধু একটি উৎসবই নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিতেও অবদান রাখবে।
