বিশ্ববাজারে সোনার দামে উল্লেখযোগ্য পতনের পর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের স্থানীয় জুয়েলারি বাজারেও। দেশের বুলিয়ন বাজারে এই মূল্যবান ধাতুর মূল্যে স্বস্তিদায়ক সমন্বয় এনেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। গত বৃহস্পতিবার, ২০শে নভেম্বর তারিখে বাজুস এক ঘোষণায় প্রতি ভরি স্বর্ণের দামে ১ হাজার ৩৫৩ টাকা হ্রাস করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে, যা ক্রেতাদের জন্য অবশ্যই একটি ইতিবাচক খবর।
স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম কমার কারণ
বাজুসের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য হ্রাস পেয়েছে। মূলত বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিপরীতে স্বর্ণের মূল্যের ওঠানামার ফলস্বরূপ এই পরিবর্তন এসেছে। সার্বিক পরিস্থিতি এবং স্থানীয় বাজারের চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য বিবেচনা করে এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, যা শুক্রবার, ২১শে নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। এই সমন্বিত মূল্য কেবল এক সপ্তাহের জন্য নয়, বরং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সারাদেশের সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই নতুন দামেই স্বর্ণ বিক্রি অব্যাহত থাকবে, যা ২৮শে নভেম্বর তারিখেও অপরিবর্তিত থাকবে বলে বাজুস নিশ্চিত করেছে।
নতুন মূল্য কাঠামো: প্রতি ভরি স্বর্ণের বিশদ বিবরণ
বাজুসের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের বাজারে বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) নিম্নলিখিত মূল্যে বিক্রি হবে:
- ২২ ক্যারেট স্বর্ণ: পূর্বে প্রতি ভরি ছিল ২ লাখ ৯ হাজার ৫২০ টাকা। বর্তমানে এটি কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ১৬৭ টাকায়।
- ২১ ক্যারেট স্বর্ণ: এর পূর্ব মূল্য ছিল ২ লাখ ৩ হাজার টাকা। নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৯৬ টাকা।
- ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ: পূর্বে যার মূল্য ছিল ১ লাখ ৭১ হাজার ৪২৬ টাকা। এখন এর দাম কমে হয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৩১৭ টাকা।
- সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ: আগে প্রতি ভরির দাম ছিল ১ লাখ ৪২ হাজার ৫৯২ টাকা। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, এর মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৪৭ টাকা।
এই পরিবর্তিত মূল্য তালিকা পরবর্তী যেকোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বাংলাদেশের সকল জুয়েলারি শোরুমে প্রযোজ্য হবে।
ভ্যাট এবং মজুরির নিয়মাবলী
স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের কিছু অতিরিক্ত খরচ সম্পর্কে অবগত থাকা জরুরি। বাজুসের নির্দেশনা অনুসারে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সাথে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) যুক্ত হবে। এছাড়াও, বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি বা তৈরির খরচও সংযুক্ত হবে। তবে, গহনার ডিজাইন, কারুকার্য এবং মানের ভিন্নতার ওপর ভিত্তি করে এই মজুরির তারতম্য হতে পারে। এই নিয়মগুলি মেনে চলার জন্য সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়ের জন্যই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
