নিউইয়র্কের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দঘন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যা স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। প্রখ্যাত কবি, লেখক, বুদ্ধিজীবী এবং মানবাধিকার সংগঠক ফরহাদ মাজহারের সুযোগ্য কন্যা সমতলী হক নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিশনাল টিমের সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। এই নিয়োগ কেবল সমতলী হকের ব্যক্তিগত মেধা ও সাফল্যের স্বীকৃতিই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম ও বিশ্বের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্কের প্রশাসনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সমতলী হকের পেশাগত জীবন ও সামাজিক অবদান
শিক্ষাবিদ এবং সমাজকর্মী হিসেবে সমতলী হকের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও নিরলস প্রচেষ্টা তাঁকে এই মর্যাদাপূর্ণ পদে আসীন করেছে। বর্তমানে তিনি সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের (CUNY) একজন সম্মানিত অধ্যাপক হিসেবে জ্ঞান বিতরণের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে আলোকিত করছেন। শিক্ষাজীবনে প্রবেশের পূর্বে, সমতলী হক একজন লেবার অ্যাটর্নি হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় তাঁর এই ভূমিকা তাঁর গভীর সামাজিক দায়বদ্ধতা ও ন্যায়পরায়ণতার পরিচায়ক। মানবাধিকার কর্মী হিসেবেও তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ সর্বজনবিদিত; তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। জোহরান মামদানি যখন নিউইয়র্কের মেয়র পদে তাঁর প্রার্থীতা ঘোষণা করেন, তখন থেকেই সমতলী হক তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার একজন অন্যতম সক্রিয় ও নিবেদিতপ্রাণ সদস্য ছিলেন। মেয়রের সাথে তাঁর রয়েছে এক নিবিড় পেশাদার ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক, যা এই গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিশনাল টিমে তাঁর অন্তর্ভুক্তিকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।
পারিবারিক পরিচয় ও ব্যক্তিগত জীবন
সমতলী হকের জন্ম প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব ফরহাদ মাজহারের প্রথম পক্ষের স্ত্রীর ঘরে। তাঁর পারিবারিক পটভূমি তাঁকে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক কাজের প্রতি অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার ফরহাদ মাজহারের দ্বিতীয় স্ত্রী। সমতলী হক বিবাহিত এবং তাঁর স্বামী একজন পুয়ের্তো রিকান বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক। তাঁরা তাঁদের এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানকে নিয়ে নিউইয়র্কেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন, যা তাঁদের বৈচিত্র্যময় পারিবারিক জীবনের সুন্দর চিত্র তুলে ধরে।
নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আনন্দের জোয়ার
জোহরান মামদানির ট্রানজিশনাল টিমে সমতলী হকের অন্তর্ভুক্তি ছাড়াও আরও আটজন প্রতিভাবান বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তির স্থান লাভ, নিউইয়র্কের বিশাল বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে এক অভূতপূর্ব উদ্দীপনা ও আনন্দের জোয়ার সৃষ্টি করেছে। এই নিয়োগের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই কমিউনিটির সকল স্তরে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে এবং সবাই নবনির্বাচিত মেয়র মামদানির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। আগামী ১লা জানুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের এই সর্ববৃহৎ ও বিশ্ব অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রের মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন মুসলিম জোহরান মামদানি। লন্ডনের মতো বিশ্বখ্যাত শহরে একজন মুসলিম মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর, এবার বিশ্বের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত নিউইয়র্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে একজন মুসলিম ও ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টের মেয়র নির্বাচিত হওয়া নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক ঘটনা। এটি কেবল নিউইয়র্কের বৈচিত্র্যময় সমাজ ব্যবস্থাকেই প্রতিফলিত করে না, বরং বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর, বিশেষ করে অভিবাসীদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরও স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। বাংলাদেশি কমিউনিটি এই অর্জনকে তাদের দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও একতার ফল হিসেবে দেখছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের স্বপ্ন বুনছে।
