তুরস্ক এবং কুয়েতের মধ্যে সম্প্রতি চারটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে। এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান এবং কুয়েতের আমির শেখ মিশাল আল-আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহ উপস্থিত ছিলেন। কুয়েতের বায়ান প্রাসাদকে এ ঐতিহাসিক মুহূর্তের কেন্দ্রবিন্দু করা হয়েছে, যেখানে দুই দেশের শীর্ষ প্রধান বিষয় নিয়েছিলেন যে পরস্পরের মধ্যে নিত্য নতুন সহযোগিতার সূচনা হবে।
দ্বিপাক্ষিক চুক্তিপত্র ও বৈঠকের মূল বিষয়
প্রতিষ্ঠিত এই চুক্তিপত্রগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো সামুদ্রিক পরিবহন চুক্তি, যেটি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নাবিকদের সার্টিফিকেট স্বীকৃতি বিষয়ক সমঝোতা স্মারকের উপর ভিত্তি করে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং কুয়েতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ ইউসুফ সৌদ আল-সাবাহ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করছেন, যা সামুদ্রিক খাতে উভয় দেশের ইকোনমিক এবং নিরাপত্তাজনিত পরিবেশকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে।
এছাড়াও, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। তুরস্কের জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী আলপারসলান বায়রাকতা এবং কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রী সুবাইহ আব্দুলআজিজ আব্দুলমোহসেন আল-মুহাইজেম উভয় পক্ষের হয়ে এই চুক্তিতে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।
পরবর্তীতে, সরাসরি বিনিয়োগ উৎসাহে সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা তুরস্কের প্রেসিডেন্সিয়াল ইনভেস্টমেন্ট অফিস এবং কুয়েতের কুয়েত ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন অথরিটি (কেডিআইপিএ) এর মধ্যে সম্পন্ন হয়। এই চুক্তিতে তুরস্কের বিনিয়োগ অফিসের প্রধান আহমেত বুরাক দাগলিওগ্লু এবং কেডিআইপিএ এর মহাপরিচালক শেখ মিশাল জাবের আল-আহমদ আল-সাবাহ স্বাক্ষর করেন, যাকে বিনিয়োগ ক্ষেত্রের নতুন দিগন্ত খোলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দ্বিপাক্ষিক আলোচনার উজ্জ্বল মুহূর্ত
দিনের শুরুতেই, কুয়েতে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের জন্য একটি উষ্ণ স্বাগত নির্ধারণ করা হয়। অনুষ্ঠানের সময়, এরদোগান কুয়েতের আমিরের সাথে সরাসরি এবং প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে আলোচনায় অংশ নেন। বৈঠকের শেষে, কুয়েতের আমিরকে উপহার হিসেবে তুরস্কে তৈরি অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘টগ’-এর একটি মডেল প্রদান করা হয়, যা দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব এবং সহযোগিতার সুদৃঢ় সংকেত বহন করে।
এছাড়া, উল্লেখযোগ্যভাবে, কুয়েতের এই সফর ছিল এরদোগানের তিন দিনের উপসাগরীয় সফরের প্রথম স্টপ। তাঁর এই সফরে কেবল কুয়েতেই নয়, ওমান ও কাতারকেও পরিদর্শন করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা পূর্বের থেকে আরও ব্যাপক আঞ্চলিক সহযোগিতার সূত্রপাত করবে।
সার্বিকভাবে, এই চুক্তিগুলো শুধু অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেই নয় বরং কূটনৈতিক সম্পর্কেও এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। উভয় দেশই বিশ্বাস করেন যে, এই ধরনের সামগ্রিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় মিতব্যয়ী সম্পর্ক গড়ে তোলার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে।
