ভারতের পুনে শহরে সম্প্রতি এক অপ্রত্যাশিত ঘটনার মাধ্যমে নতুন বড় ধরনের ধর্মীয় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ঐতিহাসিক শনিবার ওয়াড়া নামে পরিচিত দুর্গের খোলা মাঠে তিন-চারজন নারীর নামাজ আদায়ের মুহূর্তের ভিডিওর পাশাপাশি একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সেই একই স্থানে কিছু হিন্দু লোকের দ্বারা গোমূত্র ছিটানোর ঘটনা। এই দুই ঘটনার সংমিশ্রণে স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা এবং বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
নামাজ ও গোমূত্রের ঘটনাসমূহ
ভিডিওগুলিতে দেখা যায়, পুরনো দুর্গের ঐতিহ্যবাহী পরিবেশে নারীরা নামাজ আদায় করছেন, কিন্তু সাথে সাথে সংঘটিত হচ্ছে একটি ভিন্ন প্রকারের আচরণ; হিন্দু দলের নেত্রী মেধা কুলকার্নি এর অধীনে সংগঠিত এক গোষ্ঠীর সদস্যরা নামাজ আদায়ের স্থানেই হঠাৎ করেই গোমূত্র ছিটিয়ে দিচ্ছেন। এতে শিবের বন্দনাও এক সাথে চলে, যা দর্শকদের মুগ্ধতার পাশাপাশি বিতর্কের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।
ঐতিহাসিক ‘শনিবার ওয়াড়া’ ও তার নান্দনিকতা
পুনের ঐতিহাসিক দুর্গ, যা মারাঠা সাম্রাজ্যের শৌর্য প্রদর্শনের স্বাক্ষর হিসেবে পরিচিত, আজকাল ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির দাওয়াই নিয়ে আলোচিত হচ্ছে। একদিকে, শনিবার ওয়াড়াকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘনিষ্ঠতা ও সাহসিকতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, অন্যদিকে সমালোচনার মুখে পড়েছে নামাজ আদায়ের অনুষ্ঠান।
মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নিতেশ রানে ভিডিওর ঘটনাকে সমালোচনা করে বলেছেন, “শনিবার ওয়াড়ার ঐতিহ্য অনেক পুরোনো এবং এটি সাহসিকতার চিহ্ন। যদি হিন্দুরা ‘হাজি আলী’তে হনুমান চালিসা পাঠ করেন, তাহলে মুসলিম সম্প্রদায়ের মনে কষ্ট সৃষ্টি হতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “মসজিদের পরিবেশে নামাজ আদায়ের গুরুত্ব অপরিসীম; আর ঐখানে অন্য কোনো ধর্মীয় রীতি প্রয়োগ করলে আপত্তিজনক প্রভাব পড়তে পারে।”
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও আইনি পদক্ষেপের আহ্বান
এই ঘটনার ফলস্বরূপ বিজেপির কিছু সংসদ সদস্যদের বক্তব্য নিয়ে বিরোধী নেতাদের মুখে তীব্র সমালোচনা উঠে এসেছে। অজিত পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপির মুখপাত্র রুপালি পাতিল থোম্বরে পুলিশের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান, কারণ তিনি মনে করছেন এ ধরনের বক্তব্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সর্বোপরি, এই ঘটনা সমাজে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সংঘর্ষের নতুন একটি অধ্যায় খুলে দিয়েছে এবং প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, ধর্মীয় চর্চা ও ঐতিহ্যের যথাযোগ্য সীমারেখা কোথায়। নতুন এই বিতর্ক শুধুমাত্র ভারতের রাজনৈতিক পরিমন্ডলেই নয়, বরং সমাজের সামগ্রিক সংস্কৃতিমণ্ডলেও বহুল আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
