ডোনাল্ড ট্রাম্পের অসাধারণ এবং প্রচলিত রাজনীতির মূলনীতিকে চ্যালেঞ্জ করার ধরণ অনেক দফা আলোচিত হয়েছে। তিনি আগে থেকেই এমন একজন রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত যিনি প্রচলিত নিয়ম-কানুনের বাইরে কাজ করেন। বর্তমানে, তিনি নিজেই হোয়াইট হাউসের আভ্যন্তরে একটি নতুন পরিবর্তন সূচনা করে চলেছেন। তার তত্ত্বাবধানে, ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের কিছু অংশ ভেঙে একটি বিশাল ও আধুনিক বলরুম নির্মাণের কার্যক্রম একমাত্রিক রূপ ধারণ করতে শুরু করেছে।
গতকাল সোমবার, হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংয়ের পূর্বপ্রান্তে ভাঙাঘরা কাজের সূচনা হয়েছে। সাবেক আবাসন ব্যবসায়ী ট্রাম্পের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, এ প্রকল্পের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ২৫ কোটি ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে এএফপির স্থানীয় সাংবাদিকরা, যারা লক্ষ্য করেন যে একটি এক্সকাভেটর দ্বারা ইস্ট উইংয়ের সামনের ধারে ইটপাথর ও স্টিলের তারের স্তূপকে শক্তিশালীভাবে ভাঙা হয়েছে।
ট্রাম্পের উত্তেজনা ও স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট ছিল যখন তিনি সম্প্রতি কলেজ বেসবল খেলোয়াড়দের সম্মানিত করার অনুষ্ঠানে বলেন, ‘সরাসরি অন্য পাশে অনেক নির্মাণকাজ চলছে। মাঝে মাঝে আপনারা এর শব্দ শুনতে পাবেন।’ তার এই বক্তব্যে স্পষ্টতই তাঁর ভবিষ্যত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইস্ট উইংয়ের সম্পূর্ণ আধুনিকায়নের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল।
৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে বলরুম নির্মাণের সূচনা ঘোষণা করেন। তিনি জানান যে, শতকেরও বেশি সময় ধরে হোয়াইট হাউসে এ ধরনের পরিবর্তন করা হয়নি। নতুন বলরুম নির্মাণ প্রকল্পটি শুধুমাত্র একটি বিল্ডিং কাজ নয়; বরং এটি একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাঙ্গণের আধুনিকায়নের মিলনমেলা, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য নতুন দিকপ্রদর্শন নিশ্চিত করা হবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ, ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি, হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে নতুন, বিশাল ও সুন্দর বলরুমের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে’। এই ঘোষণা তাঁর একান্ত বিশ্বাস এবং দৃঢ় প্রত্যয়ে নির্মাণ কার্যক্রমের প্রতি তাঁর আশাবাদকে রিফ্লেক্ট করে।
ট্রাম্পের এই উদ্যোগ শুধুমাত্র বলরুম নির্মাণের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মাধ্যমে পুরো ইস্ট উইং ভবিষ্যতের জন্য আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, আগের চেয়ে আরও উন্নত ও সুদৃশ্য পরিবেশ তৈরি হবে যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এক নতুন নকশার সূচনা করবে।
এই প্রকল্পটি হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হতে যাচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে ধর্মপ্রাণ ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার সমন্বয় কতটুকু গুরুত্ব পায় বর্তমান রাজনীতিতে।
